বস্তিবাসীদের জন্য স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার মহাখালী সাততলা বস্তিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার কথা হলো সরকারের প্রথম প্রায়োরিটি হওয়া উচিত এদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। এখানে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদেরকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সাততলা বস্তিতে অগ্নিকা-ের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। কী কারণে আগুন লাগল, কেন লাগল? এদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা কী করা যায় তার জন্য অবশ্যই সরকারকে পরিকল্পনা নিতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখানে ভাসমান মানুষ কেউ গৃহপরিচারিকার কাজ করে, কেউ রিকশা চালায়, কেউ বুট পালিশ করে। একেবারেই বাস্তুহারা ছিন্নমূল মানুষগুলো এ ধরনের বস্তিতে বসবাস করে। আজকে ৫০ বছর হয়ে গেল, কিন্তু মানুষের মৌলিক যে অধিকার, প্রতিটি মানুষের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার। দুর্ভাগ্য স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমরা সেটা করতে পারিনি।’
তিনি বলেন, ‘আজকে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রজেক্ট করছে। ১০ হাজার টাকার প্রজেক্ট ৫০ হাজার হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই ছিন্নমূল মানুষগুলোর জন্য কেউ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। কঠিন কাজ না তো। বাংলাদেশে সরকারের যে জমি, সেই জমিগুলোই তো বরাদ্দ করা যায়।’
ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আমাদের সঙ্গে আপনাদের এই এলাকার মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল আছেন। যদিও সরকারের নির্বাচন কমিশন তাদেরকে হারিয়ে দিয়েছে। তারপরও জনগণের নির্বাচিত মেয়র তাবিথ। আমি আশা করি আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সামান্য হলেও দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।’
এ সময় বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুনসী বজলুল বাসিত আনজু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম নকি, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
নেতাকর্মীদের এত ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না : বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আশাহত না হয়ে দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যান। ইনশাআল্লাহ জয় আমাদের আসবে। এত ত্যাগ বৃথা যেতে পারে না। আওয়ামী লীগ যেদিন থেকে ক্ষমতায় এসেছে তারা সেদিন থেকে জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। আমরা শুরু থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। সমস্ত অন্যায় ও আওয়ামীবিরোধী আন্দোলন যুবকদের শুরু করতে হবে। আন্দোলন শুরু হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। এরপর সে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে যায়।’
তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান তথ্যমন্ত্রী সব মিথ্যে বলেন। তিনি সম্ভবত হিটলারের তথ্যমন্ত্রী ছিলেন। আওয়ামী লীগের এসব নেতাকর্মী বারবার মিথ্যে বলতে বলতে একবার সত্য বলে ফেলেন। তাদের মুখ দিয়ে সত্যটা বেরিয়ে আসে।’
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ^র চন্দ্র রায়, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আব্দুস সালাম ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল প্রমুখ।