বারভিডার সংবাদ সম্মেলন

বাজেটে বড় মাইক্রোবাসেও শুল্ক সুবিধা দাবি

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাইক্রোবাস এবং হাইব্রিড কার ও জিপ (১৮০১ সিসি থেকে ২৫০০ সিসি পর্যন্ত) আমদানিতে শুল্ক কমানো ও পুনর্বিন্যাস করায় খুশি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডা। সংগঠনটি বলেছে, বাজেটে ৭ থেকে ৯ আসনের মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে। তবে গণপরিবহন হিসেবে বহুল ব্যবহৃত ১০ থেকে ১৫ আসন সেগমেন্টের বড় মাইক্রোবাসের সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়নি। বারভিডা এ ধরনের মাইক্রোবাসেও সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। কেননা ১০ থেকে ১৫ আসনের মাইক্রোবাসই নাগরিক জীবনে বেশি অবদান রাখছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরে বারভিডা কার্যালয়ে বাজেট পেশ-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বাজেটের ওপর বারভিডার মতামত উপস্থাপন করেন। বারভিডা সভাপতি আবদুল হক স্বাগত বক্তব্য দেন। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন মিন্টু, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিছুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বারভিডা মহাসচিব বলেন, হাইব্রিড গাড়ির শুল্ক কমানোর উদ্যোগ সময়োপযোগী। তবে এ গাড়ির সিসি সø্যাব শূন্য থেকে ২০০০ সিসি এবং ২০০০ থেকে ২৫০০ সিসি করলে শুল্ক ছাড়ের প্রভাব আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছবে। রিকন্ডিশন্ড মোটরযান আমদানির ক্ষেত্রে তারা যে ৪৫ শতাংশ অবচয় এবং বছরভিত্তিক অবচয় সুবিধা চেয়েছিলেন তা প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তারা চান, তাদের এসব প্রস্তাব বাজেট পাসের সময় অন্তর্ভুক্ত হোক।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা নেতারা জানান, উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের এ তাৎপর্যপূর্ণ সময়ে সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশে নতুন গাড়ির শিল্পপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নে গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ প্রয়োজন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) মতে, গাড়ির অভ্যন্তরীণ বাজার এক লাখ ইউনিট হলেই দেশে নতুন গাড়ির শিল্পপ্রতিষ্ঠা যুক্তিযুক্ত হবে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এলে বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও অনেক বাড়বে।

বারভিডা নেতারা উল্লেখ করেন, নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন মূল্যে বৈষম্যের ফলে নতুন গাড়ির চেয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি পড়ে যাচ্ছে। ফলে ক্রেতা কমে যাচ্ছে, আমদানি কমছে এবং এ খাতের ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ছেন। আমদানি ক্রমাগত কমতে থাকায় যেখানে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২০ হাজার ১৪৯টি এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৩ হাজার ৭৫টি গাড়ি আমদানি হয় সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা ১২ হাজার ৫০২টিতে নেমে আসে। ২০১৯-২০ অর্থবছরেও আমদানি কমে যাওয়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে। আমদানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ও লক্ষ্যণীয় হারে হ্রাস পেয়েছে।

বারভিডা সরকারের নতুন গাড়ি শিল্পপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যেন সিকেডি আমদানির মাধ্যমে কোনো ‘স্ক্রু ড্রাইভিং শিল্প’ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় না নেওয়া হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। মুক্ত বাজার অর্থনীতির আলোকে দেশে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি খাত যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে সরকারকে যতœবান হওয়ার জন্য তারা আহ্বান জানান।