যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রথম বিদেশ সফরে যাবেন ইউরোপ। যথারীতি তার ভ্রমণসঙ্গী একদল সাংবাদিক। তবে ভ্রমণসঙ্গী হলেও তারা যাবেন আলাদা একটি উড়োজাহাজে। সেভাবেই গত মঙ্গলবার রাতে ওয়াশিংটন থেকে ভাড়া করা উড়োজাহাজ নিয়ে উড়াল দিতে প্রস্তুত ছিলেন তারা। কিন্তু বাদ সাধল একপাল ঘুরঘুরে পোকা। রানওয়েতে ওই উড়োজাহাজের ইঞ্জিন দখল করে নিয়েছিল ঘুরঘুরে পোকার দল। ফলে ওই বিমান আর ওড়ানো যায়নি। পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষার পর আরেকজন পাইলট ও আরেকটি উড়োজাহাজ এসে উদ্ধার করেন সেই সাংবাদিকদের।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তাদের যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বুধবার প্রথম প্রহরে রাত ২টা ১৫ মিনিটে তারা রওনা হন ইউরোপের পথে। খবরে বলা হয়, উড়োজাহাজ পোকার দখলে চলে যাওয়ার খবর হোয়াইট হাউজকে জানানো হলে ডলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নতুন একটি উড়োজাহাজ পাঠানো হয়।
হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা হোটেলে জড়ো হওয়া সাংবাদিকদের আশ^স্ত করেন, পোকার মেঘ পেরিয়ে নিরাপদেই তারা গন্তব্যে পৌঁছাবেন।
কয়েক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে এই পোকার উপদ্রব বেড়ে গেছে। কোটি কোটি উড়ন্ত পোকার কারণে আবহাওয়ার রাডারেও আকাশে ধরা পড়ছে ‘পোকার মেঘ’। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৭ বছর পর পর ওয়াশিংটনে ঘুরঘুরে পোকার সংখ্যা বিপজ্জনক হারে বেড়ে যেতে দেখা যায়।
টিভি সাংবাদিকদের ঘাড়ে, গাড়ির উইন্ডশিল্ডে কিংবা রাস্তায় বের হওয়া মানুষের চুলের মধ্যেও ঝুলে থাকতে দেখা যায় এই পোকা।
এদিকে উড়োজাহাজ পোকার দখলে চলে যাওয়ার খবরে টুইটারে অনেকেই অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের বিলম্বের জন্য সমবেদনা জানিয়েছেন। অনেকে আবার ছুড়ে দিয়েছেন বিদ্রুপ।
একজন লিখেছেন, পোকাগুলোকে কি ছিনতাইকারী ভাবা হচ্ছে? এফবিআই কি উড়োজাহাজটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে?
কারও কারও মন্তব্যে আবার এটা স্পষ্ট যে তারা হোয়াইট হাউজের সাংবাদিকদের এই বিড়ম্বনায় মোটেও ‘অসন্তুষ্ট নন’।
একজন টুইটে লিখেছেন, আমি দেশপ্রেমিক ঘুরঘুরে পোকাগুলোর এই দারুণ কাজের প্রশংসা করছি।
প্রখর গ্রীষ্ম এই পোকাদের বংশবিস্তারের উপযুক্ত সময়। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনের শেষ বা জুলাইয়ের শুরুতে ঘুরঘুরে পোকাদের এবারের বিস্তার থিতিয়ে আসবে। ১৭ বছর পর ২০৩৮ সালে আবারও এসব পোকার প্রজনন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।