মির্জা ফখরুল বললেন

ওবায়দুল কাদেরের কথা শুনলে ঘোড়াও হাসে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ঠান্ডা মেজাজে ক্রমাগত মিথ্যাচার করছেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জোরেও বলেন না, রাগ করেও বলেন না। ঠান্ডা মেজাজে কথা বলেন বলে মনে হয় সত্যি কথাই বলছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কথা শুনলে ঘোড়াও হাসে।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জিয়াউর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বই প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আওয়ামী লীগ মিথ্যা ইতিহাস তৈরির চেষ্টা করছে। মিথ্যা কথা প্রচার করতে করতে ওরা এখন জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা তো দূরের কথা, স্বাধীনতার ঘোষক দূরের কথা, জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর বানাতে চাইছে। এসব কথা শুনে জনগণ হাসে। এর জবাব দিতে হলে নেতাকর্মীদের শহীদ জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর লেখা বইগুলো বেশি বেশি পড়তে হবে। পাশাপাশি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা পড়তে হবে।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ওদের কথার কী উত্তর দেব, ওদের কথায় তো ঘোড়াও হাসে।  কখন কী বলেন, না বলেন, তারা নিজেরাও জানেন না। আর মিথ্যা বলতে বলতে এমন একটা জায়গায় চলে গেছেন, ওই যে গোয়েবলসীয় প্রচারের মতো।’

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে নাৎসিবাদী ফ্যাসিস্ট হিটলারের প্রচারমন্ত্রী গোয়েবলসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের তথ্যমন্ত্রী অনর্গল মিথ্যা বলেই যাচ্ছেন। অবলীলায় খুব শান্ত মেজাজে বলেন। কিন্তু জোরে বলেন না, রাগ করে বলেন। মনে হয় যেন ঠিকই বলছেন। এটাকেই বলে গোয়েবলসীয় প্রচার।’

তিনি বলেন, ‘দেশে এখন করোনা ও আওয়ামী লীগ সরকার এই দুই দানব সবকিছুকে তছনছ করে দিচ্ছে। ফলে আমরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। এটাকে জয় করতে হবে। এই জয় করেই এগোতে হবে। পৃথিবীর সব বড় বড় বিজয়, বড় বড় বিপ্লব, বড় বড় অর্জন কিন্তু একটা স্লোগানে“আমরা করব জয়”। এই স্লোগান দিয়েই আমাদের জয় করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘অবৈধ সরকার আপনাদের এমনি এমনি ক্ষমতা দিয়ে দেবে না। এরা একেবারে ডিক্টেটর বনে গেছে, কর্তৃত্ববাদী বনে গেছে এবং জানে যে নির্বাচন করে তারা কোনো দিন জিততে পারবে না। সুতরাং নির্বাচন নির্বাচন খেলা করবে, নির্বাচনের নাটক করবে, তামাশা করবে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ওরা নিজেদের জয়ী করবে। যেমনটা ২০১৮ ও ২০১৪ সালে করেছে। আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে নেতাকর্মীদের সংগঠিত হয়ে যুদ্ধ করতে হবে।’

জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. জহির দীপ্তির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।