সরকারি তথ্য ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে লুকানোর কিছু নেই : এমএ মান্নান

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, এক শতাংশ সরকারি তথ্যে গোপনীয়তা রয়েছে। সেগুলোর প্রতি গণমাধ্যমকে সম্মান দেখানো উচিত। বাকি ৯৯ শতাংশ সরকারি তথ্য লুকানোর কিছু নেই।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে ‘বিবিএস গ্রোসারি (কনসেপ্টস অ্যান্ড ডেফিশেন)’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব স্ট্যাটিস্টিকসের (এনএসডিএস) প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন।

তিনি বলেন, সরকারি তথ্য লুকানোর কিছু নেই। ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে সরকারি তথ্য প্রকাশে কোনো সমস্যা নেই। শুধু রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে ১ শতাংশ গোপনীয়তা রয়েছে। সেটির প্রতি গণমাধ্যম সম্মান দেখাবে অবশ্যই। আগামীতে হয়তো সেই ১ শতাংশও আর গোপন রাখার প্রয়োজন নাও হতে পারে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার অত্যন্ত স্বচ্ছ। কোনো তথ্য লুকাবেন না। আপনাদের জরিপে যদি কোনো ভয়ংকর কিছু আসে, সে ক্ষেত্রে মহাপরিচালক ও সচিবকে জানাবেন। তারা মনে করলে আমাকে জানাবেন। আমি মনে করলে সরকারপ্রধানকে জানাব।

তিনি আরও বলেন, সরকার বিবিএসের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে মূল আকার আসে বিবিএস থেকে। এ জন্য পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিশুদ্ধতা দরকার। আমরা জনগণের পক্ষে কাজ করি। আমলাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। বেশি বেশি প্রশিক্ষণ দিতে হবে। মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, অনেক জরিপ বা শুমারির ফল নিয়ে বিতর্ক হয়। এতে একেকজন একেক রকম ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। এসব বিতর্কের অবসান ঘটাবে এ প্রকাশনাটি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিবিএসকে এসডিজির অগ্রগতি মনিটরিংয়ের জন্য সঠিক উপাত্ত সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সংস্থাটি এসডিজির ২৩১টি ইন্ডিকেটরের মধ্যে ১০০টির তথ্য সরাসরি প্রণয়ন ও সরবরাহ করে। বিবিএসের বিভিন্ন শুমারি ও জরিপ বা অন্যান্য পরিসংখ্যান কার্যক্রমে বিভিন্ন মেথলজি ব্যবহার করা হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে একটি বিষয়ের ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পরিলক্ষিত হয়। এ সমস্যা দূর করার জন্য সব শুমারি ও জরিপ কার্যক্রমে অভিন্ন ধারণা বা সংজ্ঞা ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এতে বিবিএসের বিভিন্ন শুমারি ও জরিপ বা অন্যান্য পরিসংখ্যান কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত হবে।