এনামুল হক ভূঁইয়া ওরফে এনু এবং রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ৮৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার অভিযোগে পৃথক দুটি চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্যাসিনোকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রাজধানীর পুরান ঢাকার আলোচিত দুই ভাই ও বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা। বৃহস্পতিবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।
দুদকের অভিযোগপত্রের বিবরণ থেকে জানা যায়, ক্যাসিনো ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত মেসার্স এনু-রুপন হাউজের প্রোপাইটার এনামুল হক এনু। তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৪৭ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৮ টাকা ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়া ৩৭ কোটি ৫৭ লাখ ১৬ হাজার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন।
কমিশন এনুর সঙ্গে অভিযোগপত্রে অন্যতম সহযোগী হারুনুর রশিদ ও আবুল কালাম আজাদ ওরফে আজাদ রহমানের নাম উল্লেখ করে। বলা হয়, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে বর্ণিত সম্পদের মধ্যে যথাক্রমে ১৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ও দুই কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনে এনামুল হক এনুকে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেন। যার কারণে এই অভিযোগপত্রে তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অপর মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, এনামুল হক ভূইয়া এনু ও রুপন ভূঁইয়ার অর্জিত সম্পদের অবস্থান, মালিকানা নিয়ন্ত্রণ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে স্থানান্তর রূপান্তর হস্তান্তরপূর্বক অর্থ পাচার আইনে অপরাধ করায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার কমিশন চার্জশিটের অনুমোদন প্রদান করে।
২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ১৮ সেপ্টেম্বর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে অভিযানে গিয়ে জুয়া খেলার উপকরণ ও মদ উদ্ধারের ঘটনায় দুই ভাই এনু-রুপনের সম্পৃক্ততা পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এরপর ওই বছরই ২৪ সেপ্টেম্বর গেণ্ডারিয়ায় এনু ও রুপনের বাড়িতে এবং পরে তাদের এক কর্মচারী এবং তাদের এক বন্ধুর বাসায় অভিযান চালিয়ে ৫টি সিন্দুক জব্দ করা হয়। এসব সিন্দুক থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা, আট কেজি সোনা এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে র্যাব। এছাড়া ২৩ অক্টোবর ২০১৯ সালে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।
ওই মামলার পর গত বছরের ১৩ জানুয়ারি ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা সংক্রান্ত মামলায় পলাতক দুই সহোদর এনামুল হক এনু এবং রুপন ভূঁইয়াকে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। ওই সময় বিপুল পরিমান অর্থ জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার লালমোহন স্ট্রিটের ১১৯/১ হোল্ডিংয়ে মমতাজ ভিলায় অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচটি সিন্দুকে ২৬ কোটি ৫৫ লাখেরও বেশি টাকা, এক কেজি সোনা ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করে র্যাব।
জানা গেছে, অভিযানের প্রথম দিকে র্যাবের কাছে দুই ভাইয়ের মালিকানায় ১৫টি বাড়ির তথ্য থাকলেও, গ্রেপ্তারের পর সিআইডি জানায়, বাড়ির সংখ্যা ২২টি। আর রিমান্ড শেষে জানা যায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ১২০টি বাড়ি থাকার তথ্য দিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে র্যাব ও সিআইডি একাধিক মামলা করে। সেগুলো পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।