দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছেই। গত দুই সপ্তাহে সংক্রমণ বেড়েছে প্রায় ৬৩ শতাংশ। দুই সপ্তাহ আগে গত ২৭ মে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ হারে ১ হাজার ২৯২ রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা অনুপাতে সংক্রমণ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ দেড় মাস পর গতকাল শনাক্ত হার ১৩ শতাংশের ওপরে উঠল। এর আগে সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল এর চেয়ে বেশি ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ হারে ২ হাজার ৯২২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল দেশে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে খুলনা ও রংপুরে এবং সবচেয়ে কম সংক্রমণ হয়েছে ঢাকায়। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগে ১৯ হাজার ৪৪৭টি নমুনা পরীক্ষায় ২ হাজার ৫৭৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার হিসাবে সর্বোচ্চ শনাক্তের হার খুলনায় ৩৯ শতাংশ এবং রংপুরে ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে শনাক্ত ৬ শতাংশেরও কম। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৮ শতাংশ, সিলেটে ১৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৬ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১৪ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১১ শতাংশ করোনা রোগী শনাক্ত হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য বিশ্লেষণ করে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসের শেষ দিন দেশে করোনা রোগী শনাক্তের হার ছিল ৯ শতাংশের ঘরে। ওইদিন ২৪ ঘণ্টায় ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ হারে ১ হাজার ৭১০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তার ১০ দিনের মাথায় গতকাল ১৩ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে ২ হাজার ৫৭৬ রোগী শনাক্ত হয়েছে।
১০ দিনের ব্যবধানে শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। অন্যদিকে সংক্রমণ হার ৯ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশে উঠেছে। শতকরা হিসাবে এই ১০ দিনে সংক্রমণ বেড়েছে ৪০ দশমিক ৮০ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বমোট ১৯ হাজার ৪৪৭টি নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৮ হাজার ৬৮৭টি নমুনায় ৫১৩, ময়মনসিংহে ৫৫৪টি নমুনায় ৬২, চট্টগ্রামে ২ হাজার ৪০৩টি নমুনায় ৩৩৭, রাজশাহীতে ৫ হাজার ১১০টি নমুনায় ৮১৫, রংপুরে ৪১৬টি নমুনায় ১৩০, খুলনায় ২২১টি নমুনায় ৭৩, বরিশালে ২৬৮টি নমুনায় ৪৯ এবং সিলেট বিভাগে ৫২৪টি নমুনায় ৯২ জন রোগী শনাক্ত হয়।
বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের বাগেরহাটে ৬৩, চুয়াডাঙ্গায় ৩৭, যশোরে ২০০, ঝিনাইদহে ২১, খুলনায় ১২২, কুষ্টিয়ায় ৭৩, মেহেরপুরে ৯, নড়াইলে ৫ এবং সাতক্ষীরায় ৪৮ জন শনাক্ত হয়। এছাড়া রংপুর বিভাগে শনাক্তকৃত ১৩০ জনের মধ্যে রংপুরে ১৯, পঞ্চগড়ে ১, নীলফামারীতে ২, লালমনিরহাটে ১১, কুড়িগ্রামে ১০, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩৯, দিনাজপুরে ৪৩ এবং গাইবান্ধায় ৫ জন শনাক্ত হয়।
হিসাব করে দেখা গেছে, দেশে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় গতকাল করোনা সংক্রমণ শনাক্ত রোগীর সংখ্যা, শনাক্তের হার ও মৃত্যু সবই বেড়েছে। গতকাল ২ হাজার ৫৭৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময় মৃত্যু হয়েছে ৪০ জনের। আগের ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ গত বুধবার শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫৩৭ জন। টানা ৪১ দিন পর এদিন শনাক্ত রোগী আড়াই হাজার ছাড়ায়। ওই সময় করোনায় মৃত্যু হয় ৩৬ জনের।
নতুন শনাক্তদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮ লাখ ২০ হাজার ৩৯৫ জন ও মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৯৮৯ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৬৩০ জন।