নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় রবীন্দ্র কুমার দাস নামে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার গভীর রাতে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রাফ সমাজ এলাকায় সড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রবীন্দ্র স্থানীয় সতীশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি চরঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও পূর্ব শত্রুতার জেরে রবীন্দ্রকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা করছে তার স্বজন ও হাতিয়া থানা পুলিশ।
এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, রাতে স্থানীয় বাংলাবাজার এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে রবীন্দ্রসহ কয়েকজন হাতিয়া উপজেলা সদর উছখালী যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় রবীন্দ্রের সঙ্গে থাকা আরও দুই মোটরসাইকেল আরোহী পালিয়ে গেলেও তিনি পারেননি। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে টহল পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় রবীন্দ্রকে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার সময় রবীন্দ্রের সঙ্গে একই মোটরসাইকেলে থাকা উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আল-আমিনের দাবি, স্থানীয় চরঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদের ভাই ও ছেলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে চেয়ারম্যান আবদুল হালিম আজাদ দেশ রূপান্তরকে জানান, করোনা পরিস্থিতিতে ইউপি নির্বাচন স্থগিত করায় তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। রবীন্দ্র হত্যার সঙ্গে তার পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে এ হত্যাকাণ্ড পূর্ব শত্রুতার জেরে হতে পারে বলে ধারণা তার।
হাতিয়া থানা পুলিশ জানায়, নিহত রবীন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, অপহরণ, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ থানায় অন্তত ২৮টি মামলা রয়েছে। ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনার মামলায়ও রবীন্দ্র অন্যতম আসামি। তার নামে ‘রবীন্দ্র বাহিনী’ নামে এলাকায় একটি সক্রিয় বাহিনীও রয়েছে।
হাতিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রবীন্দ্রের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করার চিহ্ন রয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।’