চট্টগ্রামে মাদকদ্রব্যের চালান আটক করতে গিয়ে মাদকবাহী মাইক্রোবাসের চাপায় নিহত হয়েছেন নগর পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। তার নাম কাজী মো. সালাউদ্দিন (৩৮)। গতকাল শুক্রবার ভোরে নগরীর চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মো. মাসুম নামে পুলিশের এক কনস্টেবলও আহত হয়েছেন।
পুলিশ বলছে, মাদকদ্রব্যবাহী একটি মাইক্রোবাসকে থামানোর সংকেত দিলে প্রথমে মাইক্রোবাসটি থামে। সে সময় এএসআই সালাউদ্দিন তল্লাশি চালাতে গেলে তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায় মাইক্রোবাসটি। এতে ঘটনাস্থলেই সালাউদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরে মাইক্রোবাসটি ধাওয়া করে পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করা হয়।
নিহত এএসআই চান্দগাঁও থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি লক্ষ্মীপুর সদরের হাজীপাড়া থানার দক্ষিণ জয়পুর গ্রামের কাজী নাদের জামানের ছেলে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি চান্দগাঁও থানায় যোগদান করেছিলেন।
চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজেশ বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, চোলাই মদ পরিবহন করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে এএসআই সালাউদ্দিন মেহরাজ খান চৌধুরীঘাটা এলাকায় নগরীর দিকে আসা কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসকে থামার সংকেত দেন। প্রথমে থামলেও পরে সেটি না থেমে তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে এএসআই সালাউদ্দিন মাথা ও কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত পান। তার সঙ্গে থাকা কনস্টেবল মাসুমও ঘাড়, বুক ও হাতে আঘাত পান। এএসআই সালাউদ্দিনকে চাপা দিয়ে চালক দ্রুতগতিতে মাইক্রোবাসটি চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা রাজেশ বড়ুয়া বলেন, ‘পরে পুলিশ ধাওয়া করে চান্দগাঁও বোর্ড স্কুলসংলগ্ন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাইক্রোবাসটি জব্দ করে। কিন্তু এর চালক ও সঙ্গীরা পালিয়ে যায়।’
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া জানান, এএসআই সালাউদ্দিন ও কনস্টেবল মাসুমকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন এসআই রফিকুল। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সালাউদ্দিনকে মৃত ঘোষণা করেন। আর কনস্টেবল মাসুম বর্তমানে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া জানান, জব্দ করা মাইক্রোবাসটিতে ৭৩০ লিটার চোলাই মদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে যাত্রীর আসন থেকে ৩৫টি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বস্তায় ২০টি করে ৭০০টি স্যালাইনের প্যাকেটভর্তি চোলাই মদ ছিল। এছাড়া আরও তিনটি প্লাস্টিকের জারে থাকা ১০ লিটার করে ৩০ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়।
এএসআই সালাউদ্দিনকে মাইক্রোবাসচাপায় হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে জানিয়ে রাজেশ বড়ুয়া বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামি শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। ময়নাতদন্ত শেষে এএসআই সালাউদ্দিনের মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’