নিজেকে সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতেন শেখ হাবিবুর রহমান। ব্যবহার করতেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম। এসএসআই করপোরেশন নামে একটি সংস্থা খুলে চাকরি দেওয়া, জমি উদ্ধার, ফ্ল্যাট উদ্ধারসহ যেকোনো কাজের সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। আর এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দারা (এনএসআই) হাবিবুরের প্রতারণার এসব তথ্য র্যাব-৪-কে দেন। গত বৃহস্পতিবার সংস্থাটি মিরপুর-১০ এলাকার সেনপাড়ার একটি অফিস থেকে হাবিবুর ও তার দুই সহকর্মীকে আটক করে।
অন্য দুজন হলেন সহযোগী খলিলুর রহমান (৬২) ও আবু সাইদ (৫২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৯৮ পিস ইয়াবা, পাঁচটি মোবাইল ফোন, প্রতারণার মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি চেক, এক লাখ টাকা, এনআইডি কার্ডের ২৫টি ফটোকপিসহ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাবিব সরকারের উঁচুমহলের আত্মীয় পরিচয়ে সম্প্রতি পুলিশের বিভিন্ন থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে তদবির করেন। শেখ হাবিবের দ্বারা প্রতারিত অসংখ্য ভুক্তভোগী রয়েছে, যারা এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এস কে হাবিবের ছেলে শেখ ইমরান বাবার মতোই প্রতারণার কাজে জড়িত বলে জানা গেছে। ইমরানের স্ত্রী শারমিন আক্তার একসময় গণভবনে কর্মরত ছিলেন। ইমরানের সঙ্গে বিয়ের পর স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে দেন এবং স্বামী ইমরান ও শ^শুর হাবিবের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার সঙ্গে শারমিনও জড়িয়ে যান।