চীনকে টেক্কা দিতে তাদের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) বিকল্প হিসেবে একটি বৈশ্বিক অবকাঠামো পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে বিশ্বের শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-৭।
নতুন ওই পরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা করা হবে। গতকাল শনিবার জি-৭ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
গত কয়েক বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতি ও সামরিক খাত উভয় ক্ষেত্রে চীন আগ্রাসী গতিতে এগিয়ে চলছে। জি-৭ জোট চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের আগ্রাসনের সুসংহত জবাব দেওয়ার একটা পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাইডেন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, চীনে জোর করে শ্রম দিতে বাধ্য করার বিরুদ্ধেও শক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র জি-৭ভুক্ত বাকি দেশগুলোকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘এটা শুধু চীনকে মোকাবিলা করা বা চীনকে টেক্কা দেওয়ার বিষয় নয়। বরং আমরা এখনো এমন কোনো ইতিবাচক বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারিনি যেটা আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের অবস্থান এবং আমরা কীভাবে ব্যবসা করি, তাকে প্রতিফলিত করবে।’
২০১৩ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি তার লাখো কোটি ডলারের অবকাঠামো প্রকল্প বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) ঘোষণা করেন। এটি একটি উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ উদ্যোগ, যেটি এশিয়া থেকে শুরু করে ইউরোপ ছাড়িয়ে আরও বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
বিআরআই প্রকল্পের আওতায় চীন বিভিন্ন দেশের রেলপথ, বন্দর, মহাসড়ক এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে সহায়তা করবে। বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশ চীনের এ সহায়তা প্রকল্পে সই করেছে।
গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে জি-৭ সম্মেলন শুরু হয়। এর উদ্বোধন করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। জনসন ছাড়াও এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দুই নেতা এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। আর সম্মেলনে ভার্চুয়ালি ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নেতাদের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।