সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) যে বরাদ্দ থাকে তার ৬০ শতাংশই তরুণদের কোনো কাজে লাগে না। ২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তরুণদের উন্নয়নের জন্য জড়িত। আগামী অর্থবছরের (২০২১-২২) এডিপি এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ সরাসরি তরুণদের কেন্দ্র করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর বাকি ২৬ শতাংশ বরাদ্দ আংশিকভাবে তরুণদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
গতকাল রবিবার সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘তরুণদের প্রেক্ষাপটে বাজেট’ বিষয়ে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য দেওয়া হয়। সানেমের গবেষক ইশরাত শারমীন এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সভাপতিত্ব করেন অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। সঞ্চালনা করেন সানেমের গবেষণা পরিচালক সায়মা হক। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দে তরুণদের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানে সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, বাজেটে তরুণদের জন্য বরাদ্দ বেশ কম। এবারের কভিড পরিস্থিতিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এসব খাতে উদ্যোগের ঘাটতি আছে। জনমিতির সুবিধা (জনসংখ্যার অনুপাতে তরুণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি) কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে কথা বলতে বলতেই সময় ফুরিয়ে যাবে।
সাংসদ নাহিম রাজ্জাক বলেন, ক্ষুদ্র ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের জায়গায় অনেক রকমের ঘাটতি রয়েছে। প্যাকেজে তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে যাই আমরা কেন প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছি না। তরুণদের যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা কি শ্রমবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত? সরকারের এসব ভালো উদ্যোগ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির মধ্যে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। নাহিম রাজ্জাক দক্ষ জনবল তৈরি, কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা এবং তরুণ জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, সরকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু তরুণদের ছাড়া কীভাবে এত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব? তাই তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করতে পারলে কর্মসংস্থান বাড়বে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাসানুল ইসলাম বলেন, কভিডের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ সমাজ। বিশেষ করে বস্তি এলাকার অনেকে শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়েছেন। এখনো জানি না, কত শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছেন। যখন স্কুল-কলেজ খুলবে, তখন তা বোঝা যাবে।
করোনাকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব অনেক বেশি। করোনার কারণে দরিদ্র পরিবারের তরুণরা ভুগছেন। অনেকে কাজ হারিয়েছেন। এমন তরুণদের নিয়ে কী করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, করোনার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। কারা ঝরে পড়ছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। এগ্রো ভেঞ্চারসের পরিচালক ও তরুণ উদ্যোক্তা ফারজিন ফেরদৌস আলম ঋণ পেতে উদোক্তাদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। প্রণোদনা প্যাকেজ থেকেও তরুণরা তেমন কিছু পাননি বলে তিনি অভিযোগ জানান।