যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছেন ৪ লাখ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় চার লাখ মানুষ। টেম্পোরারি প্রটেকটেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) নিয়ে দেশটিতে এতদিন ধরে কাজ করে আসা এ লোকগুলো আর যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। সম্প্রতি এমন রায় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এলিনা কাগান চলতি সপ্তাহে তার এক রায়ে বলেছেন, ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি এ দেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করে, তাহলে তারা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার জন্য অনুপযুক্ত।

এ স্ট্যাটাসটি (টিপিএস) দেওয়া হয়েছিল যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত দেশ থেকে আসা লোকদের জন্য। ১৯৯০ সালে পাস হওয়া আইনে টিপিএসের এ সুবিধায় তারা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার সুবিধা পেয়েছেন।

১৯৯৭ সালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এল সালভাদরের এক নাগরিক। ২০০১ সালে তিনি টিপিএস সুবিধা পান। পরে ২০১৪ সালে তিনি দেশটিতে স্থায়ী হওয়ার (গ্রিন কার্ড) জন্য আবেদন করেন। তার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন সেই নাগরিক। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এমনকি দেশজুড়ে বিভিন্ন নিম্ন আদালতে এ সংক্রান্ত মামলায় ব্যাপক বিরোধমূলক সিদ্ধান্তও আসে। বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ালে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলো এ রায়ের মাধ্যমে।

লিখিত রুলিংয়ে কাগান লিখেছেন, এ টিপিএস সুবিধায় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসাদের ‘মানবিক সুরক্ষা’ দেওয়া হয়েছিল। তবে এর মাধ্যমে অভিবাসন আইনে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কখনই ‘স্বীকৃতি’ দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে অভিবাসী গ্রুপগুলো তাদের যুক্তিতে বলে যে, মানবিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অনেক লোক অনেক বছর ধরে এ দেশে বসবাস করছেন। তাদের অনেকেই এরই মধ্যে এ দেশে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, যারা জন্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। টিপিএস সুবিধায় বিশ্বের ১২টি দেশ থেকে চার লাখ লোক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। এল সালভাদর ছাড়া অন্য ১১টি দেশ হলো হাইতি, হন্ডুরাস, মিয়ানমার, নেপাল, নিকারাগুয়া, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেন।