বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যু-পরবর্তী গার্ড অব অনার দেওয়ার সময় নারী কর্মকর্তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। নারীদের জানাজায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ধর্মীয় বিধিনিষেধ থাকায় এমন সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাতের পরিবর্তে দিনে গার্ড অব অনার দেওয়ার বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে শতাধিক উপজেলা ও থানায় প্রধান নির্বাহী পদে নারী কর্মকর্তা কাজ করছেন।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভায় এসব সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, ওয়ারেসাত হোসেন ও মোছলেম উদ্দিন আহমদ অংশ নেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, কোনো মুক্তিযোদ্ধা মারা গেলে সাধারণত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা থানা নির্বাহী কর্মকর্তা (টিএনও) গার্ড অব অনার প্রদান করে থাকেন। ইসলাম ধর্মে নারীদের জানাজায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই যেসব উপজেলা বা থানায় এই পদে নারীরা রয়েছেন, তারা জানাজায় অংশ নেন না। কিন্তু গার্ড অব অনার প্রদান করে থাকেন। এরপরও বিষয়টি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন। কমিটির বৈঠকে একজন সদস্য বিষয়টি তুলে ধরেন। যেসব উপজেলা বা থানায় নারীরা প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করছেন, সেখানে গার্ড অব অনার প্রদানের জন্য বিকল্প কাউকে রাখা যায় বলে মত দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে এমন সুপারিশ করে।
কমিটির সভাপতি শাজাহান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম প্রসঙ্গটি তুলেছেন। তিনি বলেছেন, রাতে গার্ড অব অনার হয় না। দিনের বেলায় গার্ড অব অনার দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। আর গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত ইউএনওরা সম্মানটা জানান। যেসব স্থানে নারী ইউএনও রয়েছেন, সেখানে তারা যান। নারীরা জানাজায় অংশ নিতে পারেন না। জানাজার সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির একটা বিষয় আছে। নারীদের জানাজায় অংশ নেওয়া নিষেধ, এ রকম একটি বিষয় আছে। সে জায়গা থেকে চিন্তা করে এ সুপারিশ করা হয়েছে। শাজাহান খান বলেন, কোনো বিকল্প প্রস্তাব দেননি। বিধিবিধান দেখে মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, নারী ইউএনওদের গার্ড অব অনারে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। কারণ গার্ড অব অনার এবং জানাজা আলাদা বিষয়। এ ক্ষেত্রে তো কোনো সমস্যা দেখি না। কেননা গার্ড অব অনার সারা দেশে শতাধিক উপজেলায় নারী ইউএনও রয়েছেন। তাহলে তো সব উপজেলায় পুরুষ ইউএনও দিতে হবে।
সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা প্রশাসন। ডিসি বা ইউএনও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে থাকেন। কফিনে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বৈঠক শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা সংগ্রহ করা ও চিহ্নিত রাজাকারদের পরবর্তী প্রজন্মকে সরকারি চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে কিছু জায়গায় বিভিন্ন দিবসে স্বাধীনতাবিরোধীদের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন সম্পর্কিত ঘটনা সমাধানের লক্ষ্যে সমস্যার বিবরণীর একটি সারসংক্ষেপ কেবিনেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।