খুবির সেই ৩ শিক্ষক বিষয়ে নতুন উপাচার্যের মত জানতে চান শিক্ষার্থীরা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকের বরখাস্ত ও অপসারণ বিষয়ে নবনিযুক্ত উপাচার্যের মতামত জানত চান শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে উপাচার্যের কাছে আবেদনপত্র প্রেরণ ও ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের মাধ্যমে সাক্ষাতের চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন বলে দাবি তাদের।

সোমবার (১৪ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রায় ১০ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের খান জাহান আলী হল গেটের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন গত ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ পান।

উপাচার্য বরাবর আবেদনপত্র প্রেরণ ও সাক্ষাতের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলা ডিসিপ্লিনের আশিক বিশ্বাস বলেন, আমরা গত ২৬ তারিখ থেকে ছাত্রবিষয়ক পরিচালককে মাধ্যমে করে আবেদনপত্র প্রেরণ করতে গেলে তার যথার্থ সহযোগিতা পাইনি। তিনি এ বিষয়ে কেন সহযোগিতা করতে অপারগ এর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি দিয়েছেন। এরপর আবারও গেলে তিনি অপরাগতা জানান। এ জন্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে  উপাচার্য বরাবর আবেদনের বিষয়টি জানিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. শরীফ হাসান লিমন বলেন, ‘সম্পূর্ণ বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আমার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী নবনিযুক্ত উপাচার্যকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য যোগাযোগ করেছিল। তবে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ক্যাম্পাস খোলার পর তাদের যোগাযোগ করতে বলি। এ  ছাড়া তারা অভিনন্দন পত্রের সঙ্গে গোপনে স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিল, যা প্রতারণার শামিল।

বহিষ্কৃত তিন শিক্ষকের পূর্ণবহালের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওটা আদালতে এখন প্রক্রিয়াধীন’।

লিখিত বক্তব্যে আশিক বিশ্বাস আরো বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকের বরখাস্ত ও অপসারণের প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষকরা আদালতে যান। আদালত তিন শিক্ষককে চাকরি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে স্থিতাবস্থা দিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে শিক্ষকদের পাঁচ মাসের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। যা অমানবিক ও স্বেচ্ছাচারিতার শামিল। আমাদের দাবি, অতি দ্রুত তিন শিক্ষককে স্বপদে বহালের যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন।

অন্যদিকে ৫ জুন খুলনার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খুবির বহিষ্কৃত তিন শিক্ষককের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন বলেন,বর্তমানে ‘এটা আদালতে প্রক্রিয়াধীন একটি বিষয়, এ বিষয়ে আমার মন্তব্য  করা ঠিক হবে না’।

এর আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম উপাচার্য অধ্যাপক  ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামানের মেয়াদে ২১২তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ফি কমানো ও আবাসন সংকট সমাধানসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘উস্কানি’ দেওয়ার অভিযোগে বাংলা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল ফজলকে বরখাস্ত এবং একই ডিসিপ্লিনের প্রভাষক শাকিলা আলম ও ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনের প্রভাষক হৈমন্তী শুক্লা কাবেরীকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে চাকরিচ্যুতি ও অপসারণ আদেশের বিরুদ্ধে ৯ ফেব্রুয়ারি রুল নিশি জারি করে তাদের শিক্ষকতা চালিয়ে যাওয়ার আদেশ প্রদান করেছেন উচ্চ আদালত।

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে উচ্চ আদালত এই আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, ওই তিন শিক্ষকের খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে কোন আইনি বাধা নেই।