স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বমুখী ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনও আকর্ষণীয় হারে বাড়ছিল। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচকটি ৬০০০ পয়েন্ট অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপে কিছুটা অস্থিরতাও দেখা দেয়। কৌশলগত ও ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নন এমন বিনিয়োগকারীদের কারণে চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই বেশিরভাগ শেয়ারের দর কমছে। এতে করে গত দুই দিন মুনাফা তুলে নেওয়ার চাপে মূল্যসূচক কমেছে। সূচক কমার পাশাপাশি লেনদেনও কমছে। টানা আট কার্যদিবস পর ডিএসইর লেনদেন গতকাল দুই হাজার কোটি টাকার নিচে নেমেছে।
গতকাল ডিএসইতে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ নেমে এসেছে ১ হাজার ৭৪০ কোটি টাকায়, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ কম। চলতি জুনের মধ্যে এটিই সবচেয়ে কম লেনদেন। গত ১ জুন ডিএসইতে ১ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা কেনাবেচা হলেও এরপর থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত দুই হাজার কোটি টাকারও বেশি কেনাবেচা হতে দেখা যায়। এরমধ্যে গত ৯ জুন ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা কেনাবেচা হয়, যা ২০১০ সালের ধস পরবর্তী সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন। তবে চলতি সপ্তাহ থেকে সামান্য সংশোধন দেখা দেওয়ায় লেনদেন কমতে শুরু করেছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, উৎপাদনমুখী কোম্পানির শেয়ার বিক্রির চাপে গতকাল ডিএসইতে বড় ধরনের সূচক কমার আশঙ্কা দেখা দিলেও ব্যাংক শেয়ারের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় তা প্রশমন করা গেছে। গতকাল লেনদেন শুরুর সোয়া দুই ঘণ্টায় ডিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫১ পয়েন্ট কমে গেলেও ব্যাংক, বীমার শেয়ার দরবৃদ্ধিতে দিনশেষে ২২ পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ করে। দিনশেষে ডিএসইতে ১০৩টি কোম্পানির শেয়ার দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৫৮টি সিকিউরিটিজ দর হারিয়েছে। অপরিবর্তিত ছিল ১১টির দর। ব্যাংকের বাজার মূলধন বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।