সখীপুরে কোচ নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, দুই আসামি গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কোচ এক নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সখীপুরের বড়চালা গ্রামের প্রকাশ সরকারের ছেলে দিনা সরকার (৩০) ও মৃত নারায়ণ সরকারের ছেলে মন্টু সরকার (৩২)।

মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। সোমবার রাত পৌনে একটার দিকে নাগরপুর ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের সখীপুরের দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হাতীবান্ধা ইউনিয়নের বাজাইল বড়চালায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর এক নারীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়।

ওই নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আহত ওই নারী বত৴মানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান–স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম সজীব জানান, ৪০ বছর বয়সী এই নারীকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রথমে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ভর্তি করা হয় টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চিকিৎসক রেহানা পারভীন সাংবাদিকদের বলেন, তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড়ের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। চারটি দাঁত ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাছাড়া পায়ুপথ ও যৌনাঙ্গ ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় তার। প্রাথমিক পরীক্ষায় আমরা ধর্ষণের আলামত পেয়েছি।

এ ঘটনায় রবিবার ওই নারী নিজে বাদী হয়ে সখিপুর থানায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকজন সদস্যের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার অপর আসামি সবদুল মিয়াকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়ন। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বাংলাদেশ কোচ আদিবাসী ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক রতন কুমার রায়, বিশ্বজিৎ কোচসহ সংগঠনটির অন্য নেতা–কর্মীরা বক্তব্য দেন। বক্তারা গণধর্ষণের ঘটনায় অপর আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।