গবেষণায় প্রমাণিত, শিশুদের ক্যানসার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হয় বংশগত কারণে। শরীরের বৃদ্ধি, টিউমার এবং বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি জিন মূলত দায়ী। সেল বা কোষের ক্রোমোজমের মধ্যে থাকে জিন।
কোনো কারণে এসব জিন কার্যকারিতা হারালে টিউমার বা ক্যানসার হতে পারে। শিশুরা সাধারণত বেশি চোখ, কিডনি, স্নায়ু, লিভার ও ব্রেইন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া ব্লাড ক্যানসার ও হাড়ের ক্যানসারও হতে পারে।
লক্ষণ
শিশুদের চোখের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হলো চোখের মণি সাদা হয়ে যাওয়া এবং রাতে চোখ দেখতে বিড়ালের চোখের মতো হয়। কিডনিতে ক্যানসার হলে পেটের যেকোনো পাশে চাকা বা টিউমার অনুভূত হয়। বেশি বড় হলে পেট ফুলে যায়। স্নায়ু ক্যানসার হলে সে স্থান আক্রান্ত সেই স্থান ফুলে যাবে এবং ব্যথা অনুভূত হবে। এই ক্যানসার ঘাড়, প্যারান্যাজাল সাইনাস বা পেটে হয়ে থাকে। লিভার ক্যানসার হলে পেটের ডানদিকে পাঁজরের নিচে ফুলে যায় ও ব্যথা হয়। ব্রেইন ক্যানসারে সাধারনত মাথাব্যথা, হাঁটা-চলায় অসুবিধা, বমি হওয়া, দুর্বল লাগা, জ্বর, রক্ত ঝরাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হাড়ের ক্যানসার হলে শরীর ফুলে যায় ও ব্যথা হয়।
করণীয়
শিশুদের ক্যানসার সাধারণত ছয় মাস বয়স থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বেশি দেখা যায়। রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগের বিস্তারিত বিবরণসহ বংশগত কোনো কারণ আছে কি না, তা জানতে হবে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা দিতে পারলে ৮০ শতাংশ শিশুর ক্যানসার নিরাময় সম্ভব। সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি সব চিকিৎসা শিশুদের ক্যানসারের নিরাময়ের জন্য প্রযোজ্য। তবে সার্জারি ও কেমোথেরাপি শিশুদের জন্য বেশি প্রয়োজন হয়। কারণ শিশুদের কোষ বর্ধিঞ্চু পর্যায়ে থাকে।
ফলে ক্যানসারের বৃদ্ধি যেমন দ্রুত হয়, তেমনি কেমোথেরাপিতেও সংবেদনশীল থাকে। ফলে নিরাময় সহজ হয়। অন্যদিকে রেডিওথেরাপিতে হাড়ের বর্ধন বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ক্যানসারে সময়মতো ও সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে।