সংসদে দুদককে হারুন

আলেমদের আগে এমপিদের নোটিস দেওয়া উচিত ছিল

হেফাজত নেতাদের নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘আলেমদের আগে সাড়ে ৩শ’ এমপির বিরুদ্ধে দুদক থেকে নোটিস হওয়া উচিত ছিল। তাহলে এটি সারা দেশের মানুষের কাছে সমাদৃত হতো। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ মানুষ গ্রহণ করত।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় সংসদে হজ ব্যবস্থাপনা বিল পাসের আগে সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সত্য কথা বললে স্বাভাবিক কারণে অনেকে বেজার হয়। সত্য কথাটা আসলেই কঠিন। আমরা আলেম কাকে বলব? আলেম-ওলামা তারাই যারা একেবারে সুনির্দিষ্টভাবে কুরআন এবং হাদিসের আলোকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা করেন। সব মসজিদের ইমাম কিন্তু আলেম নন।’

সংসদে উদ্বেগ প্রবাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমাদের গুরুজন বলতেন এই বিষয়গুলোর প্রতি খুব সতর্ক থাকতে হবে। সমাজে যদি সত্যিকার অর্থে আলেম-ওলামারা ক্রিটিসাইজ হয়, সমালোচিত হয়, তাদের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়। অবশ্যই আমি বলব সমাজের উদ্বেগ এবং অস্থিরতা বাড়বে।’

বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘দেশের শীর্ষ প্রায় ৫৭ জন আলেমের বিরুদ্ধে দুদক নোটিস করেছে সম্পদের হিসাব চেয়েছে। আমি তো মনে করি আগে আমাদের এই সংসদে সাড়ে ৩শ’ জন সদস্য যারা রয়েছি সর্বপ্রথম এই সাড়ে ৩শ’ এমপির বিরুদ্ধে দুদক থেকে নোটিস হওয়া উচিত ছিল। তাহলে এটি সারা দেশের মানুষের কাছে সমাদৃত হতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ মানুষ সাদরে গ্রহণ করতেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী তো বলেছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’

এ সময় ওয়ান-ইলেভেনের রাজনীতিবিদদের রিমান্ডে নেওয়ার পরে কথাগুলো স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘রিমান্ডের পর যে সমস্ত খবর পত্রিকার আসে, কীভাবে আসে? আমরা ওয়ান-ইলেভেনের সময় দেখেছি আমাদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে রিমান্ডে কী করা হয়েছে।’

সবাই পরীমণির মতো সৌভাগ্যবান নয় রুমিন ফারহানা : সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সংসদে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবাই পরীমণির মতো সৌভাগ্যবান নয়। অন্যদিকে ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান নিখোঁজ হলেও তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তার স্ত্রী এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে চাইলেও তা নেওয়া হচ্ছে না।’

সংসদে রুমিন বলেন, ‘আবু ত্ব-হা’র নিখোঁজের বিষয়ে তার স্ত্রী থানায় থানায় ঘুরছেন কিন্তু পুলিশ মামলা তো দূরের কথা জিডি পর্যন্ত নিচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন এবং তার সঙ্গে আরও তিন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। এখন পর্যন্ত তাদের ব্যাপারে কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অথচ একই সময় একই ধরনের অভিযোগ করতে দেখেছি নায়িকা পরীমণিকে। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিনি ভাগ্যবতী। কারণ তার মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হয়নি ত্ব-হার পরিবারের।’

তিনি বলেন, ‘আবু ত্ব-হার মতো সেই সৌভাগ্য হয়নি বাংলাদেশের আরও ৬০৪টি পরিবারের। যারা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ। তাদের ব্যাপারে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু বলছে, না লোকাল পুলিশ স্টেশন কিছু বলতে পারছে।’