ন্যূনতম মূলধন উত্তোলনের শর্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর সাত মাস পার হলেও তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা ২০ বীমা কোম্পানি এখনো পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন জানায়নি। এসব কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। গতকাল বুধবার আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম. মোশাররফ হোসেনকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন।
এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, যেসব বীমা কোম্পানি এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি, সেসব কোম্পানিকে আইপিওর মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করতে বীমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে কমিশন। তিনি জানান, গত বছর আইডিআরএর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য ন্যূনতম মূলধনসহ আইপিও আবেদনের বিভিন্ন বিধিবিধান শিথিল করা হয়। তবে ২০ বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য এখনো আইপিওর আবেদন জানায়নি।
এর আগে আইডিআরএর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ২৯ নভেম্বর তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা ২৬ বীমা কোম্পানিকে স্থিরমূল্যে আইপিও আবেদন করতে পাবলিক ইস্যু রুলস, ২০১৫ এর কিছু ধারা থেকে অব্যাহতি দিয়ে নোটিফিকেশন জারি করে এসইসি। ওই ২৬ কোম্পানির মধ্যে পরবর্তী সময়ে দুটি তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং চার কোম্পানির আইপিও আবেদন স্টক এক্সচেঞ্জে জমা পড়েছে। এর মধ্যে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আইপিও কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার পর ইতিমধ্যেই চাঁদা গ্রহণও সম্পন্ন হয়েছে। এর বাইরে আইপিওর আবেদন জানিয়েছে ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স ও চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি।
তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা ২০ বীমা কোম্পানির মধ্যে ১৬টি জীবন বীমা ও ৪টি সাধারণ বীমা কোম্পানি। জীবন বীমা কোম্পানিগুলো হচ্ছে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রটেক্টটিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও এলআইসি (বাংলাদেশ) লিমিটেড।
এছাড়া সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ও সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে এখনো আইপিও আবেদন জানায়নি।
পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক মন্দার সময়ে ২০২০ সালের শুরুতে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা বীমা কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে আইডিআরএকে নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কিন্তু কোম্পানিগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি ও তালিকাভুক্তিতে ন্যূনতম মূলধন উত্তোলনের শর্ত এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে আইডিআরএ থেকে বীমা কোম্পানিগুলোকে মূলধন উত্তোলনের শর্ত শিথিল করতে এসইসিকে অনুরোধ জানানো হয়।
বর্তমানে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজার থেকে ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বীমা কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন কম থাকায় এসইসির বেঁধে দেওয়া পরিমাণের শেয়ার ছাড়তে হলে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার আইডিআরএর বেঁধে দেওয়া পরিমাণের চেয়ে কমে যাবে। এ কারণেই আইডিআরএর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন ৩০ কোটি টাকা উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি প্রদান করছে এসইসি। এর ফলে ওই ২৬ বীমা কোম্পানি সর্বনিম্ন ১৫ কোটি টাকা বা তার বেশি পরিমাণের অর্থ পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলনের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হওয়ার শর্ত শিথিল করা হয়।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে পুঁজিবাজারে ৫০ বীমা কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ৩৮টি সাধারণ বীমা ও ১২টি জীবন বীমা কোম্পানি। স্বল্প মূলধন ও আইডিআরএর কিছু পদক্ষেপে বীমা কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়ায় গত এক বছর ধরেই বীমা খাতে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সময়ে বীমা কোম্পানিগুলোর দর ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। বীমা খাতের এমন উল্লম্ফনের মধ্যেই তালিকাভুক্তির বাইরে থাকা বীমা কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে এসইসি।