পোস্টার নিয়ে আক্ষেপ ছিল

জনপ্রিয় অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। করোনার মধ্যে বেশ কিছু সিনেমার কাজ করছেন তিনি। আজ থেকে শ্রীমঙ্গলে শ্যুটিং করবেন সরকারি অনুদানের ছবি ‘ছায়াবৃক্ষ’র শেষ দফার। তার সঙ্গে কথা বলেছেন রণ

শ্রীমঙ্গলে...

‘ছায়াবৃক্ষ’ সরকারি অনুদানের ছবি। সব ছবির জন্যই শিল্পীরা কষ্ট করেন। আমি যেহেতু গ্ল্যামারনির্ভর কাজ কম করি, তাই অভিনয়টা যাতে দর্শককে ধরে রাখতে পারে সেজন্য অনেক পরিশ্রম করি। চরিত্র নির্মাণে প্রচুর সময় দিই। কিন্তু এই ছবির কাজ করতে গিয়ে সত্যিই অনেক বেশি কষ্ট করতে হয়েছে। ছবিতে আমার লুক দেখলেই অনেকটা বোঝা যাবে বিষয়টি। গত বছা লকডাউনে প্রচন্ড গরমের মধ্যে শ্যুটিং করেছিলাম। আমার সহশিল্পী নিরব ও অপু বিশ্বাস । ছবিতে আমার চরিত্রটিও খুব ভালো। এখন একটাই প্রত্যাশা ছবিটি যাতে ভালোয় ভালোয় শেষ হয়। এমনিতেই আমার অনেক শত্রু। আর শত্রু বাড়াতে চাই না। তাই এই ছবি নিয়ে আর বেশি কিছু বলার নেই।

শিশুদের জন্য...

অন্য শিল্পীরা আগেই শ্রীমঙ্গলে কাজ শুরু করেছেন। আমি সুবিধাবঞ্চিতও প্রতিবন্ধী শিশু এবং ক্যানসার পেসেন্টদের নিয়ে কাজ করি। এখন একটি পাপেট প্রযোজনা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এ ধরনের কাজ করাটা খুব কঠিন। কেউ পৃষ্ঠপোষকতা করতে চায় না।তাই বলেতো কাজ থেমে যেতে পারে না। আমার মতো ‘পাগল’ কিছু মানুষ নিজেদের আয় থেকে অর্থ দিয়ে কাজগুলো করি। এই কাজের জন্য আমি ইউনিটের সঙ্গে শ্যুটিংয়ে যেতে পারিনি। আজ থেকে এই ছবির শেষ দফার কাজ শুরু করব।

পোস্টার...

এর আগে ঢাকা অ্যাটাক, ভুবন মাঝির মতো আলোচিত সিনেমা করেছি। ছবিতে আমার চরিত্রও ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কখনই ছবিগুলোর পোস্টারে আমার জায়গা হয়নি। এ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই কারও প্রতি। কিন্তু নিজের মধ্যে এক ধরনের আক্ষেপ ছিল। মেনেই নিয়েছিলাম হয়ত আমার ‘কাটতি’ নেই। সিনেমায় তো আবার কাটতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু খুব করে চাইতাম আমার ছবিও যেন পোস্টারে গুরুত্বপূর্ণভাবে জায়গা পায়। একটা সাধারণ পরিবারের মেয়ে আমি। পরিবারের সঙ্গে অনেক যুদ্ধ করে অভিনয়ে এসেছি। পোস্টারে যদি আমার ছবি থাকে তাহলে হয়ত আমায় দেখে শান্তি পাবেন। আমার মেয়ে আমাকে নিয়ে গর্ববোধ করবে। অবশেষে অনন্য মামুনের ‘কসাই’ ছবিতে আমার একটি পোস্টার হয়েছে। যদিও অন্য শিল্পীদের পরে পোস্টারটি প্রকাশ হয়েছিল। এমন একটি মানসিক পরিস্থিতিতে আমাকে ‘পোস্টার’ নামের একটি ছবির প্রস্তাব দেন পরিচালক সাইফ চন্দন। নামটি শুনেই আমার খুব ভালো লাগে। সাধারণত আমাকে সবাই অভিনয়নির্ভর খুব সিরিয়াস চরিত্রে ভাবেন। কিন্তু সাইফ চন্দন আমাকে একজন নায়িকা হতে চাওয়া তরুণীর চরিত্র দিয়েছেন। চরিত্রটি একই সঙ্গে দারুণ গ্ল্যামারাস, আবার অভিনয়ের জায়গাও রয়েছে প্রচুর। এটি মূলত সিনেমার সঙ্গে জড়িত শিল্পী, কলাকুশলী, পরিচালক, প্রযোজকের জীবনের সম্পর্কের গল্প। আশা করছি, ছবিটি সবার ভালো লাগবে। আর অল্প কিছুদিন কাজ করলেই শ্যুটিং শেষ হবে। পরিচালকের ইচ্ছা ছবিটি সিনেমা হলেই মুক্তি পাক।