পরীমণির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের অভিযোগ অল কমিউনিটি ক্লাবের

চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অভিযোগ করেছে রাজধানীর গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাব লিমিটেড কর্র্তৃপক্ষ। তাদের দাবি পরীমণি ও তার কয়েক সহযোগী ক্লাবে ভাঙচুর করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গুলশান-১-এর ১৩৭ নম্বর সড়কের ২ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কে এম আলমগীর ইকবাল গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘৭ জুন দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে পরীমণি ক্লাবে যান। ওই সময় পরীমণি ১৫টি গ্লাস, ৯টি ছাইদানি (অ্যাসট্রে) এবং বেশ কিছু হাফপ্লেট ভাঙচুর করেন।’ আলমগীর ইকবাল আরও বলেন, ‘তার (পরীমণির) সঙ্গে হাফপ্যান্ট পরা একজন লোক ও এক নারী সঙ্গী ছিলেন। ক্লাবের একজন সদস্যের রেফারেন্সে তিনি আসেন সেখানে। সেই সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ওই সদস্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আমরা এই মুহূর্তে কোনোভাবে আইনি ব্যবস্থা নিতে চাচ্ছি না। কারণ, এতে আমাদের ক্লাবের মান-সম্মান ক্ষুণœ হতে পারে। আমরা থানায় কোনো জিডি করিনি।’

ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে ইকবাল বলেন, আমাদের ক্লাবের ফুড অ্যান্ড বেভারেজের অ্যাডমিন এবং ডিরেক্টর বেরিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি দেখেন। দেখে তারা পরীমণিকে বলেছেন, ‘আপনি তো ক্লাবের নিয়ম লংঘন করেছেন। আপনি এটা করতে পারেন না। তখন তারা (পরীমণি ও তার সঙ্গীরা) ক্ষিপ্ত হয়ে যান। তাদের আচার-আচরণ গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তাদেরকে চলে যেতে বলা হয়। কিন্তু তারা যাচ্ছিলেন না দেখে আমাদের পরিচালকই ক্লাব থেকে চলে যান। এরপর যে সদস্য তাদেরকে নিয়ে এসেছিলেন তিনি তাদেরকে (পরীমণি ও তার সঙ্গী) চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু তারা যাচ্ছিলেন না দেখে ওই সদস্য নিজেও চলে যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারপর তারা অকস্মাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে যান এবং গ্লাস, অ্যাসট্রে ছুড়ে মারতে থাকেন।’ আলমগীর ইকবাল আরও বলেন, ‘এরপর ক্লাব থেকে ৯৯৯ নম্বর দিয়ে পুলিশে কল করা হয়।  পুলিশ আসার পর দেখতে পায়, তিনি (পরীমণি) প্লেট-অ্যাসট্রে ছুড়ে মারছেন। তখন পুলিশ জিজ্ঞেস করে, কেন কল করেছেন। তারা বলেন যে, আমাদের সঙ্গে এই হয়েছে সেই হয়েছে। পুলিশ সদস্যরাই বলেন যে, এ রকম কিছু তো আমরা দেখছি না। তখন কেউ ছিল না, দুজন ওয়েটার ছিল, আর তারা তিনজন ছিলেন। তারপর পুলিশ ওয়্যারলেসে ওপর মহলে জানতে চায় আমরা কী করব। তখন ওপর থেকে নির্দেশ আসে, তারা এ রকম করতে থাকলে তাদেরকে বের করে দিয়ে চলে যান।

ফারুক আরও বলেন, তারা কিছুটা ঠাণ্ডা হন এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই তারা চলে যান। এরপর আর অন্য কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা ক্লাব কর্র্তৃপক্ষ ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী শোকজ করেছি এবং এটার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটি চলমান অবস্থায় আছে।

অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কে এম আলমগীর ইকবাল আরও বলেন, ‘আমরা তাকে চিনতাম না, কোনো দিন দেখিনি। পড়ে একজনের কাছে শুনেছি ওনার নাম পরীমণি।’

এদিকে এ বিষয়ে পরীমণির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল।

অভিজাত অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, আমরা ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছি। সেটা বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে ক্লাব কর্র্তৃপক্ষ কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।