বাজেট আলোচনার সময় সংসদের বৈঠকে অর্থমন্ত্রী উপস্থিত না থাকার সমালোচনা করেন জাতীয় পার্টির সাংসদ পীর ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা বাজেট বক্তৃতা দিচ্ছি। কিন্তু অর্থমন্ত্রীকে গতকালও (মঙ্গলবার) আমরা সংসদে পাই নাই। আজকেও নাই।’
গতকাল বুধবার সংসদে বাজেট আলোচনায় পীর ফজলুর বলেন, ‘দেশের প্রথম বাজেট ছিল ৭৮৬ কোটি টাকার। অর্থমন্ত্রী বাজেট দেওয়ার দিন বলেছেন, ৭১৯ কোটি টাকার। যদি এটা ভুল হয়ে থাকে, তাহলে সংশোধন করা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বলেছেন দেশ থেকে কারা টাকা পাচার করছে, সেই তালিকা চান সংসদ সদস্যদের কাছে। সংসদ সদস্যরা কীভাবে তালিকা দেবে। তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। তিনি তালিকা দেবেন কারা অর্থ পাচার করে। পি কে হালদার টাকা নিয়ে বিদেশে গিয়ে ঘুমায়, আর তার বান্ধবীদের এখানে জেলে ঘুম পড়ান। এটা তো আমরা চাই নাই। আমরা চেয়েছিলাম পি কে হালদারদের মতো লোকেরা যেন অর্থ নিয়ে বাইরে যেতে না পারে।’
জাতীয় পার্টির এই সাংসদ বলেন, ‘প্রতিটি অডিট রিপোর্টে আছে, কীভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। সেখান থেকে তিনি কারা টাকা পাচার করে তথ্য নিতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘সিএজির গত চার বছরের অডিট প্রতিবেদন বলছে, ৩১ হাজার কোটি টাকা লুট। চার বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে জালিয়াতি, সরকারি অর্থের মোট অনিয়মের ৫২ শতাংশই ব্যাংকিং খাতে। ৯ বছরে অনিয়ম বেড়েছে ১৬ গুণ। এটি অডিটর জেনারেলের চার বছরের অডিট রিপোর্ট থেকেই এসেছে। এখান থেকে উনি পান না কেন? এই টাকা বিদেশে যায়।’
পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের শেয়ারবাজারে লুটপাট হয় অর্থমন্ত্রী খুঁজে পান না। বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বলছে, পাঁচ বছরে ১ হাজার ২৪টি অর্থ পাচারের ঘটনার প্রমাণ মিলছে। এটা তো সরকারি প্রতিষ্ঠানেরই তথ্য। তাহলে মন্ত্রী পান না কেন?’ অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে জাতীয় পার্টির এমপি বলেন, ‘সাফাই না গেয়ে যারা দুর্নীতি করছে, তাদের ধরেন। এই করোনাকালে এসে অন্তত বিবেক জাগ্রত হোক। এই দুর্নীতিবাজদের ধরেন। মানুষের চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেন। টিকা নিয়ে আমরা কোনো কথা শুনতে চাই না। টিকা নিশ্চিত করতে চাই।’
তিনি শিক্ষায় কর ও মোবাইলে অর্থ লেনদেনে করারোপের সমালোচনা করেন। এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানান। অবৈধ টাকাকে কখনোই সাদা করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।