শিক্ষাবিষয়ক ডেটাবেজ তৈরিতে ভোগান্তি

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবিষয়ক তথ্য ডেটাবেজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন খুলনার অভিভাবকরা। জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও বাবা-মায়ের অনলাইন জন্মনিবন্ধন করাতে হচ্ছে। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি খরচও হচ্ছে বেশ। তবে এ প্রক্রিয়াটি স্থগিত রয়েছে জানিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, সবার তথ্য সংরক্ষণ করা গেলে আগামীতে এ ডেটাবেজ থেকে শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সব তথ্য সহজে পাওয়া যাবে।

খুলনা জেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ বছরের এপ্রিল মাস থেকে শিক্ষার্থীদের মৌলিক তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় সরকার। এর আওতায় মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের তথ্যভিত্তিক ডেটাবেজ তৈরি এবং ইউনিক আইডি প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তা যুক্ত করা হচ্ছে সফটওয়্যারে। খুলনা জেলায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৪২০টি, মাদ্রাসা ১২৬ এবং কলেজ রয়েছে ৭৫টি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের ঘরে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রক্রিয়াটা শুরু হয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে। সেখান থেকে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন করে সেটি নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমা দিতে হয়। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেই তথ্যগুলোর সঙ্গে আরও অতিরিক্ত তথ্য যুক্ত করে সার্ভারে সংরক্ষণ করে। কিন্তু অভিভাবকদের জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও অনলাইনে জন্মনিবন্ধন করতে হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ঘুরতে হয়। গুনতে হচ্ছে সরকার নির্ধারিত ফি থেকে বেশি টাকা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী ছাত্র অথবা ছাত্রী তার জন্মনিবন্ধন অনলাইন করতে পিতামাতাসহ মোট তিনজনের নিবন্ধন অনলাইন করতে হচ্ছে। যাতে ব্যয় করতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা। অথচ পাঁচ বছর পর্যন্ত ২৫ ও পাঁচ বছরের ঊর্ধ্বে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০ টাকা নেওয়ার কথা। তাছাড়া নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হচ্ছে তার জন্য ৩০ টাকা দিতে হচ্ছে। এই টাকা হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। একদিকে স্কুলের বিভিন্ন ফি দিতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারগুলো, অন্যদিকে অনলাইনে নিবন্ধনের চাপ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীর রক্তের গ্রুপও নির্ণয়ের সনদ জমা দিতে হবে। সেটা এমবিবিএস ডাক্তার কর্তৃক প্রদত্ত হতে হবে।

অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি এ ঘোষণায় আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে চরমভাবে। আর অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে খর্নিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন জানান, প্রচুর ভিড় থাকায় অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ দিতে দেরি হচ্ছে।

ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিমাংশু কুমার বিশ্বাস বলেন, অনেকের জন্মনিবন্ধন সনদ নেই। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও সংরক্ষিত নেই। আইডি কার্ড অনুযায়ী নতুন জন্মনিবন্ধন করে দিতে হচ্ছে।

যদিও সেই স্থগিতাদেশের কার্যকারিতা দেখা যায়নি স্কুল কিংবা ইউনিয়ন পরিষদে। বরং সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই অভিভাবকরা ছুটছেন সন্তানের ইউআইডি আর নিজেদের অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ করাতে, পোহাচ্ছেন ভোগান্তি।

ভোগান্তির কথা স্বীকার করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ইউআইডি নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে।