সুইস ব্যাংকে টাকা কমেছে বাংলাদেশিদের

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা টাকার পরিমাণ কমেছে। ২০২০ সাল শেষে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের সংখ্যা আগের বছরের শেষের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বা ৩৭০ কোটি টাকা বা কম। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সাল শেষে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ছিল ৫৬ কোটি ২৯ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক বা ৫ হাজার ২০১ কোটি টাকার বেশি, ২০১৯ সালে ছিল ৬০ কোটি ৩০ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক।

সারা পৃথিবীতে ধনী ব্যক্তিদের টাকা সুইস ব্যাংকে রাখার আগ্রহের পেছনে মূল কারণ দেশটির গোপনীয়তার নীতি। সুইজারল্যান্ডের আইনে ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য নয়। টাকার উৎসও তারা জানতে চায় না। তবে কোন দেশের গ্রাহকদের কী পরিমাণ অর্থ সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা আছে, তার একটি ধারণা প্রতিবছর এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া যায়। তবে সেখানে গ্রাহকের বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া যায় না।

প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতীয়দের সুইস ব্যাংকে জমানো অর্থের পরিমাণে এবার বড় উল্লম্ফন ঘটেছে। ১৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে ২৬০ কোটি সুইস ফ্রাঙ্ক হয়েছে। গত বছর শেষেও দেশটির নাগরিকদের জমানো অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৯ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক। পাকিস্তানিদের জমা অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ বেড়ে ৬৪ কোটি ২২ লাখ সুইস ফ্রাঙ্ক হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের ২৪৩টি ব্যাংকের যে হিসাব দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক দিয়েছে, তাতে একক দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জমা অর্থের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ব্রিটিশরা সেখানে জমিয়েছে ৩৭৭ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জমার পরিমাণ ১৫২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ফ্রান্স, হংকং, জার্মানি, সিঙ্গাপুর ও লুক্সেমবার্গের নাগরিকরা সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমানোর শীর্ষে আছেন।