স্বজনহারাদের সঙ্গে বিশেষ দিন কাটাবেন বিএনপি নেতারা

রোজার, কোরবানির ঈদসহ বিভিন্ন সময়ে ক্ষতি ও বিপদগ্রস্ত দলের নেতাকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো গত রোজার ঈদের দিন ও পরে আরও তিন-চার দিন নেতাকর্মীদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে  গত ১২ বছরে যারা খুন, গুমের শিকার হয়েছেন তাদের পাশে সব সময় আছে বিএনপি। ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন দিবসে এসব নেতার পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে বিএনপি। সীমিত সামর্থ্য দিয়ে যেকোনো বিপদ-আপদে তাদের পাশে দাঁড়াই আমরা। এটা অব্যাহত থাকবে। আগে বিশেষ দিন সামনে রেখে সহযোগিতা করা হতো। এখন বিশেষ দিনে তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা।’

তিনি বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ গত রোজার ঈদের দিন বিএনপি মহাসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সারা দেশে গুম, খুনের শিকার, করোনায় মৃত্যুবরণকারী, কারাগারে আটক নেতাকর্মীদের পরিবার ও অসুস্থ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের বাড়িঘরে গিয়ে সাক্ষাৎ করে দলের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ১২ বছর ধরে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ভবিষ্যতে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন মনে না করে তাদের পাশে দল নেই, কিংবা তারা একা। তাদের নিয়েই বিএনপির পরিবার।’

প্রিন্স বলেন, ‘ঈদের দিনসহ পরবর্তী কয়েক দিন ধরে সারা দেশে নেতাকর্মীদের বাসায় গিয়ে তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সহসাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ৯০ নেতাকে ইতিমধ্যে এমন চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমন চিঠি আরও নেতাদের দেওয়া হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মো. শাহজাহান, শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন প্রমুখ।

এদিকে চিঠি পেয়ে উজ্জীবিত নেতাদের অনেকেই দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন দলের মধ্যে থাকা উচিত। দলের এখন চরম দুর্দিন চলছে। এ সময়ে যারা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন, বিপদে-আপদে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ান, তারা অনুপ্রাণিত হবেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা উচিত।’

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব সময় চেষ্টা করেন ভালো কাজ করার জন্য। কিন্তু আমাদের কিছু নেতা তাকে বিভ্রান্ত করে তার ইমেজ দলে এবং দলের বাইরে নষ্ট করেন।’ 

এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব সময় ক্ষতিগ্রস্ত, বিপদগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ান। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর মৃত্যুর পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারেক রহমান। দীর্ঘদিন রাজনীতি করলেও ঢাকা শহরে মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না বাবুর। মৃত্যুর পর তারেক রহমানের নির্দেশে এগিয়ে এসেছেন দলের সক্ষম নেতারা। ঢাকা শহরে পরিবার নিয়ে থাকার জন্য একটি অ্যাপার্টমেন্ট দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বাবুর পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে।’