লোকসানের আশঙ্কায় আমদানি কমিয়ে দেওয়ায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আগের চেয়ে দেশের বাজারে মসলাজাতীয় পণ্যটির সরবরাহ কমায় আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে। এক দিনের ব্যবধানে আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে ৩০ টাকায় গিয়ে পৌঁছাল। এদিকে আবারও পেঁয়াজের দাম বাড়ায় শঙ্কিত নিম্ন আয়ের মানুষ ও বন্দরে কিনতে আসা পাইকাররা।
গতকাল শুক্রবার হিলি স্থলবন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারকের গুদাম ঘুরে দেখা গেছে, বন্দর দিয়ে নাসিক ও ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। এক দিন আগে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তা বেড়ে ২৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া নাসিক জাতের পেঁয়াজ ২৮ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৯ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে হিলি বাজারে খুচরায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিছুটা নিম্নমানের ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে; যা এক দিন আগেও ২৪ থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, বন্দর দিয়ে আগে বেশি করে পেঁয়াজ আমদানি হওয়ার ফলে দাম অনেকটা কমে আসছিল। আমরা কম দামে কিনছিলাম, কম দামে বিক্রি করছিলাম। বর্তমানে পেঁয়াজের আমদানি কমে আসায় আবারও পেঁয়াজের দাম বাড়ছে; যার কারণে আমাদের যেমন বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তেমনি বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা শাহাবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা হিলি স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে তা রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকি। গত দুদিন আগে হিলি স্থলবন্দর থেকে পেঁয়াজ কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম ২৩-২৫ টাকা কেজি দরে। এর সঙ্গে দু-এক টাকা লাভ ধরে মোকামে বিক্রি করেছি। এখন পেঁয়াজ কিনতে এসে অবাক হয়ে গেছি পেঁয়াজের দাম বেশি। এখানেই ২৭ থেকে ৩০ টাকা। এখন আমরা কী দামে কিনব আর কী দামে বিক্রি করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি।’
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, ভারতে পেঁয়াজের দাম বেশি হলেও আমদানি করে দেশের বাজারে যা পড়তা তার চেয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে আমদানিকারকদের। এতে করে পেঁয়াজ আমদানি করে লোকসান হওয়ার কারণে আগে বন্দর দিয়ে বেশি পরিমাণে পেঁয়াজের আমদানি হলেও তা আগের তুলনায় কমেছে। আগে বন্দর দিয়ে ৩০-৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা কমে ১৫-২০ ট্রাক করে আমদানি হচ্ছে। যার কারণে দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় পণ্যটির সরবরাহ কমায় দাম বাড়তে শুরু করেছে।