আলোচিত মোসারাত জাহান মুনিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার বাদী তার বোন নুসরাত জাহান তানিয়ার ভূমিকা গুরুত্ব সহকারে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলেন, মুনিয়াকে টাকার জন্য নুসরাত অত্যধিক চাপ দিতেন। তিনি মুনিয়াকে ভাবতেন ‘টাকা কামানোর মেশিন।’
তদন্তসংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, টাকার জন্য মুনিয়ার ওপর মানসিক নিপীড়ন চালাতেন নুসরাত। নুসরাতের পরিবার চলত মুনিয়ার পাঠানো টাকায়। মুনিয়াকে ব্যবহার করে ইতিমধ্যে নুসরাত বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাছাড়া পরিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বড় ভাই আশিকুর রহমান সুবজের সঙ্গে নুসরাতের মামলা চলছে। এই মামলা চালানোর যাবতীয় খরচ দিতেন মুনিয়া। মামলা চালানোর বিভিন্ন অজুহাত তুলে টাকার জন্য মুনিয়াকে চাপ দিতেন নুসরাত। এছাড়া তার স্বামী মিজানুর রহমানকে ব্যবসার জন্য ৫০ লাখ টাকা দিতেও চাপ দেয় নুসরাত। বিভিন্ন অসিলা ধরে টাকা চাওয়ায় এবং এসব টাকার জন্য নিপীড়নের কারণে একসময় ক্লান্ত ও মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন মুনিয়া।
তারা বলেন, মুনিয়ার বেশ কয়েকটি খুদে বার্তা, হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেইসবুক মেসেঞ্জার মেসেজ পাওয়া গেছে। যেখানে মুনিয়া তার বড় বোনকে বলেছেন, ‘আমি আর পারছি না। আমাকে মাফ করে দাও। আমি আর কত জোগাব তোমাদের পেছনে।’ অতিলোভী নুসরাতের দাবি মেটাতে অপারগতা প্রকাশ করেন মুনিয়া।
এ প্রসঙ্গে তদন্ত তদারকির দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, ‘টাকার জন্য মুনিয়ার ওপর নুসরাত অব্যাহতভাবে চাপ প্রয়োগ করতেন, বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই চাপ সহ্য করতে না পেরেই মুনিয়া আত্মহত্যা করেছেন কি না, যা পরিষ্কার হবে তদন্ত প্রতিবেদনে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘নুসরাত, শারুন (হুইপপুত্র নাজমুল হক চৌধুরী শারুন) ও মুনিয়ার সম্পর্কও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ নুসরাত যে মামলাটি করেছেন ওই মামলায় একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ীকে আসামি করা হয়েছে। তার সঙ্গে মুনিয়ার কিছু ছবি পাওয়া গেছে। তবে গুলশানের ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে তাকে সেখানে যাতায়াত করতে দেখা যায়নি। ওই বাড়িতে কিছু অপরিচিত ব্যক্তির যাতায়াত ছিল। যারা শারুনের ঘনিষ্ঠ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া শারুনের সঙ্গে মুনিয়ার গভীর সম্পর্ক ছিল; যা শারুনের সাবেক স্ত্রী সাইফা রহমান মীমও জানতেন। মুনিয়াকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল শারুন। এ কারণেই মুনিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।’
এছাড়া মুনিয়ার মাদকাসক্তির বিষয়টিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারণা করা হচ্ছে মানসিক হতাশা থেকে মুনিয়া দীর্ঘ সময় ধরে নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করতেন। আর এ মাদকাসক্তির কারণেই তার মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও নিজেকে শেষ করে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। তবে মুনিয়ার মাদকাসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হতে প্রয়োজন ভিসেরা প্রতিবেদন; যা এখনো হাতে পায়নি পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামলাটির তদন্ত প্রায় শেষ দিকে। ভিসেরা প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেলেই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এর আগে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার ওসি আবুল হাসান।