ফেনী শহরের বিরিঞ্চিতে কিশোর গ্যাংয়ের নির্যাতনের শিকার হয়ে মেহরাজ (১৮) নামে এক কিশোর এক মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন।
মেহরাজ বিরিঞ্চি হাঙ্গার এলাকার ফকির বাড়ির প্রয়াত আবদুল্লাহর ছেলে এবং বিরিঞ্চি নূরিয়া সুফিয়া মাদ্রাসার ছাত্র।
রবিবার দুপুরে নিজ বাড়ির সামনে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এ ঘটনায় মেহরাজের মা হোসনে আরা বেগম বাদী হয়ে শনিবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ১৮ মে রাতে মেহরাজকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে স্থানীয় উঠতি কিশোররা।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, করোনাকালে মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় ভাইয়ের সঙ্গে মাইক্রোবাসে সহকারী হিসেবে কাজ করেন মেহরাজ।
ঘটনার দিন তার বন্ধু নোমানের বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি কিশোর গ্যাংয়ের রোষানলে পড়েন। একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোমান ও তাকে বিরিঞ্চি রশিদ ম্যানশনের সামনে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে ওই কিশোর গ্যাং।
একপর্যায়ে তাকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা সংকটজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহরাজকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
সেখানে এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার দুপুরে তিনি মারা যান।
ফেনী মডেল থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে। আসামিদের মধ্যে একজন গ্রেপ্তার রয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।