সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৫ জনের আশুলিয়ায় দাফন সম্পন্ন

সিলেটে মাজার জিয়ারত শেষে বাড়িতে ফেরার পথে নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৫ জনের মৃতদেহ গ্রামের বাড়ি সাভারের ইয়াপুরে আনা হয়েছে। মরদেহগুলো ইয়াপুর ইউনিয়নের খাঁ বাড়িতে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা। এ ঘটনায় ঘটনায় পুরো গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতদের এক পলক দেখার জন্য ওই বাড়িতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করলেও নেই কোনো কোলাহল। বাড়িতে কাঁদার মতো লোকজনও বর্তমানে নেই। একই পরিবারের নারী-শিশুসহ ৫ জন নিহত এবং আরও পাঁচজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় পুরো এলাকা নিস্তব্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার রাতে নিহতদের মধ্যে দুজনকে প্রথম রবিবার গ্রামের বাড়ি আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নে আনা হয়। পরে বিকেলে বাকি ৩ জনের মরদেহও লাশবাহী গাড়িতে করে আনা হয়। একই পরিবারের আরও ৪ জন এখনো আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আসরের নামাজের পরে জানাজা শেষে নিহতদের দাফন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন, সাভার উপজেলার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার ছাইফুলের স্ত্রী মুক্তি আক্তার (৩০) ও তার ছেলে সাদেকুল (৮), রশিদের স্ত্রী রুবি আক্তার (৩৩) ও তার মেয়ে রাহিমা (৫) এবং হারুনের শাশুড়ি রোকেয়া বেগম (৫২)।

আহতরা হলো- নিহত রহিমার বাবা রশিদ (৪০), রাজিয়া (৪০), জাহের আলীর ছেলে কাজিম উদ্দিন (৪২), সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাইফা (১২), হারুন মিয়ার স্ত্রী শারমীন (৪০) ও মেয়ে ইসরাত জাহান (৮) ও কাদির মিয়ার স্ত্রী সামসুন্নাহার (৬০)।

দুর্ঘটনায় আহত রবিউল ইসলাম জানান, তারা গত শুক্রবার রাত ৩ টার দিকে পরিবারের ১২ জন সদস্য মিলে আশুলিয়া থেকে মাজার জিয়ারতের জন্য সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। শনিবার সকাল ৮টার দিকে তারা হজরত শাহজালাল (র.) এর মাজারে পৌঁছে সেখানে জিয়ারত করে আশপাশে ঘোরাফেরা করেন।

এরপরে তারা হজরত শাহপরান (র.) এর মাজার জিয়ারত করে ঘোরাঘুরির জন্য জাফলংয়ে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে শনিবার সন্ধ্যায় রওনা হন তারা। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা ঘোড়াশাল টঙ্গী আঞ্চলিক সড়কের সাকুরার মোড়ে পৌঁছালে দ্রুতগামী ট্রাক তাদেরকে ওভারটেক করতে গিয়ে পেছন দিক দিয়ে আঘাত করে। এতে গাড়ির পেছনের দুই সিটে থাকা ৫ জন মারা যায়। সামনের সিটে আমরা যারা ছিলাম সবাই সামান্য আহত হই। এ ঘটনায় আরও ৫ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাস ও ট্রাকের চালকেরা আমাদের সহযোগিতা করলেও ঘটনাস্থলে তিনজন মারা যাওয়ায় তারা পালিয়ে যান।

আহত রশিদ বলেন, আমার স্ত্রী রুবিনা ও মেয়ে ইসরাত জাহান পেছনের ছিটে ছিল। হঠাৎ করেই কি হলো বুঝতে পারলাম না। দেখি গাড়িতেই বসে আছি আর মানুষজন খালি আমাদের সামনে এসে চিৎকার করছে, আর গাড়ি থেকে বের করার চেষ্টা করছে। আচমকা সব শেষ হয়ে গেল, বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

নিহত মুক্তির স্বামী ও সাদেকুলের বাবা সাইফুল শুধু পাগলের মতো এদিক সেদিক ঘুরছেন আর বলছেন, আমি কোনো দিনই ভাবতে পারিনি আমার স্ত্রী সন্তান এভাবে মারা যাবে। আমি এখন তাদের কোথায় পাব।

সাইফুল ইসলামের চাচাতো বোন সুরাইয়া বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ছোট মেয়ে রাহিমাটা একটু একটু কথা বলতে পারত। সেও মরে গেছে। তাকে আমরা কেউ দেখতে পারছি না। তার চেহারা চেনা যায় না।

প্রতিবেশী জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকায় এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। একই পরিবারের ৫ জন নিহতের ঘটনায় আমরা মর্মাহত। তারপরও শেষবারের মতো দেখতে এসেছি নিহতের মরদেহগুলো।