দেশীয় নিম্নস্তরের সিগারেটের চেয়ে বিদেশি ব্র্যান্ডের নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য এক টাকা বেশি নির্ধারণের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা দাবি উঠেছে। বর্তমানে বিদেশি ব্র্যান্ডের চাপে অস্তিত্ব সংকটে থাকা দেশীয় সিগারেট উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো এমন দাবি জানিয়েছে। সুরক্ষা দেওয়া না হলে এ খাতে ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ অনিশ্চয়তায় পড়বে। পাশাপাশি খাতটিতে দুই লাখ কর্মীর কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়বে। গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে আসন্ন বাজেটে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে দেশীয় সিগারেট উৎপাদনকারী মালিক সমিতি। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মালিক সমিতির সদস্য নাজমুন নাহার লাকি লিখিত বক্তব্যে বলেন, ২০০৭-০৮ অর্থবছরে দেশের বাজারে একটি বহুজাতিক কোম্পানি আগ্রাসী বিপণন কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিম্নস্তরের সিগারেট বাজারজাতকরণের পর থেকেই অধিকাংশ দেশীয় কোম্পানি অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়েছে। বর্তমানে যেসব দেশীয় কোম্পানি সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করছে, সেসব কোম্পানি অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দেশীয় সিগারেট শিল্প সুরক্ষায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নিম্নস্তরের মূল্য বিভাজন সংক্রান্ত পদক্ষেপ অনুযায়ী বিদেশি নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য দেশীয় সিগারেটের তুলনায় ন্যূনতম এক টাকা বেশি নির্ধারণের বিষয়টি বাস্তবায়নের দাবি জানায় দেশীয় সিগারেট উৎপাদনকারী মালিক সমিতি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের আলোকে ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে দুটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুসারে বিদেশি নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য এক টাকা বেশি নির্ধারণ অথবা নিম্নস্তরের আন্তর্জাতিক সিগারেটের ব্র্যান্ড মধ্যস্তরে উন্নীত করে সংরক্ষিত রাখার কথা বলা হয়েছে। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বাঁচানোর স্বার্থে আসন্ন বাজেটে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।