বিবিএসের জরিপ

কৃষিপণ্যে মূল্য সংযোজনের পরিমাণ বেড়েছে

দেশে কৃষি উৎপাদিত পণ্যের মূল্য সংযোজনের পরিমাণ বেড়েছে।  এক্ষেত্রে তন্তু জাতীয় শস্য, পান ও গোখাদ্যের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজনের হার বেশি। দেশে উৎপাদিত ১৫০ পণ্যের ওপর জরিপ চালিয়ে এই তথ্য তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। প্রথমবারের মতো পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

গতকাল সোমবার ‘কৃষিপণ্যের স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্ত জরিপ-২০২১-এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাস্তবসম্মত করতে এ জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এর মানে হচ্ছেÑ এখন জিডিপি প্রবৃদ্ধির  হিসাব করা হয় ২০০৫-০৬ ভিত্তি বছর ধরে। এই জরিপের মাধ্যমে ২০১৫-১৬ ভিত্তি বছর করা হবে। সেই সঙ্গে এখনকার বার্ষিক হিসাবের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর অন্তর হিসাব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয় ধান, গম, বার্লি ও কাউন জাতীয় শস্যের ক্ষেত্রে উৎপাদনের শতকরা হারে মূল্য সংযোজন হয় ৬৬ দশমিক ৪২ শতাংশ। ডাল জাতীয় পণ্যের মূল্য সংযোজন হয় ৭৯ দশমিক ২০ শতাংশ। তৈলবীজ জাতীয় শস্যের মূল্য সংযোজন হয় ৭৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। তন্তু জাতীয় শস্যে ৮৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সবজিতে ৬৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। শাকের ক্ষেত্রে ৭৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ মূল্য সংযোজন হয়ে থাকে। এ ছাড়া মসলার ক্ষেত্রে ৭৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, ফলের ক্ষেত্রে ৮৮ দশমিক ২২ শতাংশ, তামাকের ক্ষেত্রে ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ, পানের ক্ষেত্রে ৮৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং গোখাদ্যের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন হয় ৮৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধানের ক্ষেত্রে কৃষকরা যে পরিমাণ উৎপাদন করেন তার ৩৫ দশমিক ৪২ শতাংশ তারা নিজেরাই ভোগ করে  থাকেন। বাকি ৬৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ চলে যায় বাজারে বিক্রির জন্য। এছাড়া দানাদার শস্যের ক্ষেত্রে কৃষকরা ভোগ করেন ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ, ্আর বাজারে বিক্রির জন্য যায় ৮১ দশমিক ১০ শতাংশ। তৈলবীজ জাতীয় শস্যের ২১ দশমিক ১৯ শতাংশ ভোগ করেন কৃষকরা। বাকি ৭৮ দশমিক ৮০ শতাংশ বিক্রির জন্য বাজারে নেওয়া হয়। ফাইবার জাতীয় ফসলের ক্ষেত্রে কৃষকরা ভোগ করেন ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ, বাজারে যায় ৯৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সবজির ক্ষেত্রে কৃষকরা ভোগ করেন ২৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং বাজারে যায় ৭০ দশমিক ০১ শতাংশ। মোট উৎপাদিত শাকের ২২ দশমিক ৮১ শতাংশ কৃষকরা নিজেরাই ভোগ করেন, বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যান ৭৭ দশমিক ১৯ শতাংশ। মসলা জাতীয় ফসলের ১৩ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোগ করেন কৃষকরাই। বাকি ৮৬ দশমিক ২৮ শতাংশ যায় বাজারে। ফলের মধ্যে কৃষকরাই ভোগ করেন ২০ দশমিক ১৮ শতাংশ, বাজারে বিক্রি হয় ৭৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। টোব্যাকো জাতীয় পণ্য কৃষকরা ভোগ করেন ৮২ দশমিক ৯৫ শতাংশ আর বাজারে বিক্রির জন্য যায় ১৭ দশমিক ০৫ শতাংশ।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যার ব্যুরোর অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মোহাম্মদ মেজবাহুল আলম এবং অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) শশাঙ্ক শেখর ভৌমিক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জরিপের প্রকল্প পরিচালক জিয়াউদ্দিন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, প্রথমবারের মতো এই জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির হিসাব করার ক্ষেত্রে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে। কভিডের মধ্যেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিবিএসের কাজ থেকে নেই। হালনাগাদ তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে বিবিএস জাতীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মূল প্রবন্ধে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে এখনো কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতে প্রায় ৪১ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। স্বাধীনতার পর কৃষিখাতে ফসল উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে শিল্প ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি অনেকাংশে কৃষি খাতের বিপণিতে উদ্বৃত্তের ওপর নির্ভরশীল। বিপণি উদ্বৃত্ত যদি অপর্যাপ্ত হয়, তাহলে দেশ আমদানি করতে বাধ্য হয়, যা সরাসরি কোনো দেশের বাণিজ্য ভারসাম্য হ্রাস করে। কৃষিপণ্যের বিপণির উদ্বৃত্ত বাণিজ্য খাতে মূল্য সংযোজনের পরিমাণের ওপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্বৃত্ত বেশি হলে মূল্য সংযোজনও বেশি হয়।