শুনানিতে হাইকোর্ট

১২ বছরের শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দুঃখজনক

৮ বছরের আপন ছোট ভাইকে হত্যার মামলায় ১২ বছর বয়সী শিশুর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছে উচ্চ আদালত। বগুড়ার সারিয়াকান্দির কাটাখালীতে দিনমজুর মহিদুল ইসলামের ৮ বছরের ছেলে হত্যা মামলায় তার আরেক ছেলে ১২ বছরের শিশুকে জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করার বিষয়টি গতকাল সোমবার নজরে আনা হলে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলে হাইকোর্ট।

গত ১১ জুন একটি ইংরেজি দৈনিকে এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন গতকাল হাইকোর্টের নজরে এনে আদেশ চান সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন আইনজীবী। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ১২ বছরের শিশুর কাছ থেকে তারই ছোট ভাইকে হত্যার মামলায় পুলিশ ভয় দেখিয়ে ও নির্যাতন করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার সম্পন্ন করার জন্য হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আইনজীবী। এ সময় হাইকোর্ট বলে, যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে এটি তো দুঃখজনক। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টি গুরুত্বের বিবেচনা করতে বলেছে হাইকোর্ট। 

প্রকাশিত প্রতিবেদন ও আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট ৮ বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন বাবা মহিদুল। পরে ওই বছরের ২৯ নভেম্বর স্থানীয় থানার কিছু পুলিশ কাটাখালীতে তাদের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার নামে নিহত শিশুর বড় ভাইকে থানায় নিয়ে যায়। মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পুলিশের সঙ্গে থানায় গেলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে দেননি এবং ১২ বছরের ছেলেকে নির্যাতনের তথ্য ও তার চিৎকার শুনতে পান তিনি। পরে ৩০ নভেম্বর শিশুটিকে বগুড়ার সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করলে ভাইকে হত্যায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। জবানবন্দিতে ওই শিশু উল্লেখ করে বাবা ও মা ছোট ভাইকে বেশি আদর করার ক্ষোভ থেকে সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। অভিযুক্ত শিশু হওয়ায় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে এবং পরিবারের জিম্মায় থাকার অনুমতি দেয়। কিন্তু সন্দিগ্ধ হিসেবে মামলার প্রতিটি ধার্য তারিখে তাকে আদালতে উপস্থিত হতে হচ্ছে।

শিশুর বাবার অভিযোগ, প্রতিবেশী কয়েকজন তার ছোট ছেলেকে হত্যা করেছে এবং পুলিশ তাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তার বড় ছেলেকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছে। আইনজীবী শিশির মনির জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড হওয়ার পর এ মামলায় পুলিশ ১২ বছরের ওই শিশুকে একমাত্র অভিযুক্ত করে দোষীপত্র দেয়। এতে শিশুটির বাবা মহিদুল না-রাজি দিলে ২০১৭ সালে বগুড়ার সংশ্লিষ্ট আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়। পিবিআইয়ের তদন্তের পর ওই শিশুটি নির্দোষ প্রমাণিত হয়।