দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রোগী ও শনাক্ত হার

এ বছরের মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। সে সময় থেকে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা দেয়। এপ্রিলের শুরু থেকেই রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকে। ৭ এপ্রিল দেশে করোনার সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬২৬ জন রোগী শনাক্ত হয়। সেদিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৬৬৮টি। শনাক্তের হার ছিল ২২ শতাংশ।

এরপর রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমে মধ্য এপ্রিলে ৫ হাজারের ঘরে এসে পৌঁছায়। ১৪ এপ্রিল মোট রোগী শনাক্ত হয় ৫ হাজার ১৮৫ জন। সেদিন পরীক্ষা হয়েছিল ২৪ হাজার ৮২৫টি ও শনাক্তের হার ছিল ২১ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রোগীর সংখ্যা ও শনাক্ত হার মধ্য এপ্রিল পরিস্থিতির রূপ নিয়েছে। ৬৮ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৩৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। একইভাবে ৬৫ দিনের মধ্যে শনাক্ত হার সর্বোচ্চ ১৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ১৭ এপ্রিল শনাক্ত হার ছিল ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

গত সাতদিন ধরে দেশে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার করে রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গতকাল সোমবার নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ জন। আগেরদিন গত রবিবার রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৪১ জন। সাতদিন আগে গত ১৫ জুন নতুন ৩ হাজার ৩১৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দিনে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আগের দিন রবিবার মৃত্যু হয়েছিল ৮২ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭৮ জন। এ নিয়ে মোট মারা গেলেন ১৩ হাজার ৬২৬ জন ও মোট রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৩০৪ জন।

শনাক্ত হওয়া নতুন রোগীদের মধ্যে ১২৯৪ জনই ঢাকা মহানগরের। আর ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে গত এক দিনে। এ সময় আরও ২ হাজার ৮২৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হলেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮২ জন।

ঢাকা নগরীসহ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক ১২৯৪ জন কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলায় ১৬৫ জন, ফরিদপুর জেলায় ১১৬ জন, চট্টগ্রামে ১৯০ জন, নোয়াখালী জেলায় ১০৪ জন, রাজশাহী জেলায় ৩৭২ জন, দিনাজপুরে ১২৩ জন, যশোরে ৩০৫ জন, খুলনায় ১৭৫ জন নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন।

বিভাগওয়ারি হিসাবে ঢাকায় দৈনিক শনাক্তের সংখ্যা ১০৪৫ জন থেকে বেড়ে ১৮৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৩ জন থেকে বেড়ে ৪৬১ জন এবং খুলনা বিভাগে ৭৬৩ জন থেকে বেড়ে ৯৪৫ জন হয়েছে। তবে রাজশাহীতে মোট শনাক্ত ১০২৩ জন থেকে কমে ৭৯৯ জন হয়েছে।

ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগ মিলে গত এক দিনে ২৬৩৬ জন কোভিড রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা সারা দেশে মোট শনাক্তের ৫৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫২৮টি ল্যাবে ২৪ হাজার ৫৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬৩ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৪টি নমুনা।

দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ৭৩ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

ঢাকা বিভাগে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার আগের দিনের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং খুলনা বিভাগে ৩১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে ২২ দশমিক ৩১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ দশমিক ১৮ শতাংশ হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে শনাক্তের ১৫ শতাংশের ঘর থেকে বেড়ে প্রায় ১৮ শতাংশ হয়েছে।

গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের ২৩ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া ১৫ জন রাজশাহী বিভাগের, ১৪ জন খুলনা বিভাগের, ১১ জন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এছাড়া ৯ জন রংপুর বিভাগের, ৩ জন বরিশাল বিভাগের, ২ জন সিলেট বিভাগের এবং ১ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

মৃতদের মধ্যে ৫৬ জন পুরুষ এবং ২২ জন নারী। তাদের ৬৩ জন সরকারি হাসপাতালে, ৯ জন বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। বাসায় মারা গেছেন ৬ জন। তাদের ৩৯ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ২৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৮ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।