পাকিস্তানে ধর্ষণ বেড়ে যাওয়া নিয়ে সম্প্রতি এক মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার মতে, দেশে ধর্ষণ বৃদ্ধির জন্য নারীদের খোলামেলা পোশাকই দায়ী। অ্যাক্সিওস অন এইচবিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান খান বলেন, ‘যদি একজন নারী খুব কম পোশাক পরলে এটা পুরুষদের ওপর প্রভাব ফেলে। তারা তো রোবট নয়। এটা কমন সেন্সের বিষয়।’
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্টসের আইনজীবী রীমা উমর এক টুইটবার্তায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তানে যৌন সহিংসতার কারণ হিসেবে একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন, যা হতাশাজনক।’
অবশ্য ইমরান খানের মুখপাত্র ড. আরসালান খালিদ জানান, প্রধানমন্ত্রী পুরো বক্তব্যের খণ্ডাংশ নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘তিনি (ইমরান খান) কী বলেছেন তা পুরো যাচাই না করেই আবারও টুইট করা হয়েছে। তিনি বলতে চেয়েছেন, এটা কোন ধরনের সমাজে আমরা বাস করি যেখানে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটে।’
এর আগেও ইমরান খানকে পাকিস্তানের একটি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে একই মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল। সাক্ষাৎকারে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা ইমরান খান বলেছিলেন, ‘কোনো সমাজে অশ্লীলতা বাড়তে থাকলে পরিণামে ধর্ষণও বাড়ে। পাকিস্তানের সমাজে ধর্ষণের ঘটনা খুব তাড়াতাড়িই বেড়েছে।’ ইমরানের মতে, পুরুষদের সংযত রাখতে নারীদের উচিত খোলামেলা পোশাক না পরা। নারীদের শরীর ঢেকে চলার উপদেশ দিয়ে তিনি এ কথাও মনে করিয়ে দেন যে, ‘পর্দা ব্যাপারটির মূল কথাই হলো প্রলোভন এড়ানো আর তা এড়ানোর মতো ইচ্ছাশক্তি সবার থাকে না।’
ইমরানের এই মন্তব্যকেও ‘তথ্যগতভাবে ভুল, অসংবেদনশীল এবং বিপজ্জনক’ আখ্যায়িত করে পাকিস্তানে অনলাইনে স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান চালানো হয়।