টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বংশাই ও ঝিনাই নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নদী দুটির পানি অনেক বেড়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীরবর্তী অন্তত ১০ গ্রামের মানুষের মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকলেও ব্যক্তি উদ্যোগে চলছে নানা প্রচেষ্টা।
নদী ভাঙনকবলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত মির্জাপুর পৌর এলাকার পোস্টকামুরী সওদাগরপাড়া, বাওয়ার কুমারজানী উত্তরপাড়া এবং ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া, ফতেপুর, বানকাটা, চাকলেশ্বর, বৈলানপুর-পাতিলাপাড়া ও ভাতগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল। বর্ষাকাল এলেই এসব এলাকার নদী তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক শুরু হয়।
ভাঙনে এরই মধ্যে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও বেশ কিছু আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। বংশাই নদীর পোস্টকামুরী সওদাগরপাড়ায় নির্মিত আলহাজ একাব্বর হোসেন এমপি সেতুটি রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। গত বছর ওই সেতুর আশপাশের কয়েকশ পরিবার সওদাগরপাড়া ও সেতুটি রক্ষার জন্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। তারপরও কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মির্জাপুর সদরের পোস্টকামুরী সওদাগরপাড়া ও বাওয়ার কুমারজানী উত্তরপাড়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া গত বছরের ভাঙনকবলিত হিলরা বাজারের উত্তর পাশ এবং বাজারের পার্শ্ববর্তী এলজিইডির ৪০০ মিটার রাস্তা ও কালভার্ট এলাকায়ও নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, গত বছর এ রাস্তায় ভাঙনের পর সব ধরনের মোটরগাড়ির চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে সরকারি পর্যায়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পোস্টকামুরী সওদাগরপাড়ার বাসিন্দা মজিবুর রহমান জানান, তার বাড়িটি ২৮ শতাংশ জমির ওপর ছিল। ভাঙনের ফলে এখন মাত্র ২ শতাংশ অবশিষ্ট আছে। ভাঙন ঠেকাতে নিজ উদ্যোগে বাঁশের বেড়া দিয়েছেন। বাওয়ার কুমারজানী উত্তরপাড়ায় বিসমিল্লাহ রাইস মিলের মালিক জহির হোসেন বলেন, তাদের ৫০ শতাংশ রাইস মিল ভাঙতে ভাঙতে এখন ২০ শতাংশে এসে ঠেকেছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে নদীর পানি বাড়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে নিজ উদ্যোগে বালুর বস্তা ফেলেছেন।
থলপাড়া গ্রামের বৈলানপুরের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রতি বছর ঝিনাই নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে বালু উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে খননযন্ত্র দিয়ে ঝিনাই নদী থেকে বালু উত্তোলন করার ফলে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফতেপুর নদী ভাঙনকবলিত এলাকা সম্পর্কে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা হবে।