বিশ্বে করোনা মহামারী পরিস্থিতির মধ্যেও গত বছর সারা বিশ্বে যোদ্ধা ও আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে শিশুদের ব্যবহার বেড়েছে। গত বছর বিশ্বজুড়ে সাড়ে আট হাজারের বেশি শিশুকে যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ২ হাজার ৬৭৪ শিশু। আহত হয়েছে আরও ৫ হাজার ৭৪৮ জন। গত সোমবার যুদ্ধ ও সংঘাতে শিশুদের ব্যবহার নিয়ে জাতিসংঘের বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য। যেখানে আরও উঠে আসে, যুদ্ধে শিশুদের ব্যবহার ছাড়াও যৌন নির্যাতন, অপহরণ ও ত্রাণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি।
সারা বিশ্বে ১৯ হাজার ৩৭৯ শিশুর বিষয়ে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। গত বছর সোমালিয়া, গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে শিশুরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলা চালানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের। একই সঙ্গে হামলার লক্ষ্যবস্তুতেও রয়েছে শিশুরা। কারণ গত বছর বসতবাড়ি, স্কুল, খেলার মাঠ ছিল বেশিরভাগ হামলায় নিশানা।
অনেক শিশু জঙ্গিদের হাত থেকে মুক্তির পর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে এক বছরে মৃত্যু ২৬৭৪ফের ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধের ফলে ত্রাণকর্মীরা পৌঁছতে না পারায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। যাতে বেশি ভুক্তভোগী শিশুরা। অনেকে আক্রান্ত হয়েছে অপুষ্টি ও নানান রোগে। এদিকে সহিংসতা থেকে বাঁচতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বহু রোহিঙ্গা। যাদের একটা বড় অংশই শিশু, এদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর মিয়ানমার, সোমালিয়া ও সিরিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রায় সাত হাজার শিশুকে।
শিশু অধিকার ক্ষুণœ করছে যুদ্ধরত এমন গোষ্ঠী বা সংস্থার একটি কালো তালিকাও প্রতিবেদনে রাখা হয়েছে। শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টিই মূলত এ তালিকার লক্ষ্য। যদিও অনেক দিন ধরে এ তালিকাটি নিয়ে বিতর্ক চলছিল। কারণ সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকে চাপ ছিল তালিকায় যেন তাদের না রাখা হয়।
ইসরায়েল কখনো এ কালো তালিকায় ছিল না। অন্যদিকে ইয়েমেন যুদ্ধে শিশুদের হতাহত করার ঘটনায় প্রথমবারের মতো নাম আসার কয়েক বছর পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকেও ২০২০ সালের কালো তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিতর্ক এড়াতে ২০১৭ সালের গুতেরেসের প্রতিবেদনে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর দুটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। একটি তালিকায় রাখা হয় শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া পক্ষকে, অন্যটিতে থাকে সুরক্ষা পদক্ষেপ না নেওয়া পক্ষগুলো।