সওজ প্রকৌশলীকে মারধর

মেহেরপুরে দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

মেহেরপুরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) এক প্রকৌশলীকে তার নিজ দপ্তরে মারধরের অভিযোগে ছাত্রলীগের স্থানীয় দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত সোমবার সকালে পৌর শহরের সওজ কার্যালয়ে মারধরের শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সদর থানায় ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সংস্থাটির উপসহকারী প্রকৌশলী অনুজ কুমার দে।মামলার আসামি দুই ছাত্রলীগ নেতা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদুল ইসলাম আনন্দ।

এদিকে ওই দুই ছাত্রলীগ নেতা মামলার বাদী সওজ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার পাল্টা অভিযোগ এনেছেন। তারা বলছেন, সওজ কর্মকর্তা তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ চান। অন্যথায় তাদের করা কাজের পুরো বিল দেবেন না জানালে তা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মেহেরপুর সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী অনুজ কুমার দে জানান, সওজের অধীনে সংস্কারকাজের জন্য পাথর, প্রিগ্রাভেলস, বালি, জ¦ালানি কাঠ ও ব্যাগসহ ৩৯ লাখ টাকার মালামাল সরবরাহের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে খুলনার শহিদ এন্টারপ্রাইজ কার্যাদেশ পায়। কার্যাদেশ অনুযায়ী চলতি বছর মে থেকে জুনের ১৮ তারিখের মধ্যে মালামাল সরবরাহের নির্ধারিত সময় ছিল। খুলনার সেই ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা বারিকুল ইসলাম লিজন কাজটি করছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিজন পুরো মালামাল সরবরাহ করতে পারেননি। তিনি ২০-২৫ ভাগ মালামাল সরবরাহ করেন। সেই মালামালের আনুমানিক দাম ১২-১৩ লাখ টাকা। অথচ ছাত্রলীগ নেতা লিজন সরবরাহ করা মালামালের বিল উপস্থাপন না করে কাজের পুরো টাকার বিল জমা দেন। একই সঙ্গে পুরো টাকা প্রদানের জন্য বিলে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন। তিনি (প্রকৌশলী অনুজ) যতটুকু কাজ হয়েছে সেই পরিমাণের বাইরে কোনো বিল দিতে পারবেন না জানালে তারা (ছাত্রলীগ নেতারা) ক্ষিপ্ত হয়ে গত রবিবার অফিস থেকে চলে যান। এরপর গত সোমবার দুপুরে মামলার আসামি দুই ছাত্রলীগ নেতা ফের প্রকৌশলী অনুজের কক্ষে ঢোকেন। তারা দুজন ছাত্রলীগ সভাপতি পরিচয় দিয়ে অফিসকক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর পুরো বিলের কাগজে স্বাক্ষর দিতে বিভিন্ন হুমকিধমকি দেন। অনুজ অপারগতা প্রকাশ করলে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই ছাত্রলীগ নেতা অনুজকে কিল-ঘুসি মারতে শুরু করেন। তখন তিনি চিৎকার শুরু করেন এবং কোনোরকমে দরজা খুলে কক্ষের বাইরে বের হলে অফিসের কর্মচারীরা তাকে উদ্ধার করেন। পরে গতকাল পুরো ঘটনা উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা করেন অনুজ। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি আমি।’

তবে সওজ প্রকৌশলী অনুজের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার পাল্টা অভিযোগ করেছেন মামলার আসামি দুই ছাত্রলীগ নেতা। তাদের মধ্যে মেহেরপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বারিকুল ইসলাম লিজন অভিযোগ করে বলেন, আমি খুলনার কাজটি কিনে নিয়ে মালামাল সরবরাহ করছিলাম। আরেক ছাত্রলীগ নেতা আনন্দ আমার ব্যবসায়িক সহযোগী। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩৯ লাখ টাকার পুরো মালামাল সরবরাহ করার পর আমরা অর্থ অনুমোদনের জন্য সওজে বিলের কাগজপত্র জমা দিই। কিন্তু সওজ কর্মকর্তা বিল দিতে গড়িমসি করে কালক্ষেপণ শুরু করেন। গত সোমবার দুপুরে আমরা দুজন বিলের খবর নিতে সওজ অফিসে গেলে উপসহকারী প্রকৌশলী অনুজ আমাদের কাছে ৫ লাখ টাকা ঘুষ চান। অন্যথায় পুরো বিল দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে সওজ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। তখন তিনি কৌশলে তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে চিৎকার শুরু করে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেন এবং আমাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ আনেন। ছাত্রলীগ নেতাদের দাবি, ওই সময় মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি, কথা-কাটাকাটি হয়েছে মাত্র। সওজ কর্মকর্তা অনুজের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি এবং মানহানির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করবেন বলেও জানান ছাত্রলীগ নেতা লিজন।

সওজ কর্মকর্তারা মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারা খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সোমবার মেহেরপুর সড়ক ও জনপদ অফিসে মারধরের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী অনুজ কুমার দে বাদী হয়ে তাকে মারধরের অভিযোগ এনে আজ (গতকাল মঙ্গলবার) থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ আসামি গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।’

এ প্রসঙ্গে মেহেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত) নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি কুষ্টিয়া ছিলাম। অফিসে ঢুকে কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। থানায় মামলা হয়েছে। পাশাপাশি সওজ লিখিতভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন সব কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছে।’