খুলনায় লকডাউনের দ্বিতীয় দিন আজ। প্রথম দিন কঠোরভাবে পালিত হলেও আজ সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ও যানবাহনের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। যদিও মানুষের চলাচল ঠেকাতে মোড়ে মোড়ে বাঁশ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে এগুলো বাঁধা হয়েছে।
বুধবার সকালে নগরীর টুটপাড়া কবর খানার মোড়ে বেশ কয়েকজনকে প্রয়োজন ছাড়া ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।
হাফিজুর রহমান বলেন, লকডাউন কেমন চলছে তাই দেখতে বের হলাম। এখন বাসায় চলে যাব।
এ সময় রিকশাচালক মো. রহিম বলেন, ‘ঘরে কোনো দানা-পানি নেই। তাই রিকশা নিয়ে
বারইছি। যদি অলিগলিতে চালাইয়া কিছু টাকা হয়, তাই দিয়ে এক বেলার খাবার হয়ে যাবে নে। কিন্তু সকাল তেমন কোনো যাত্রী পাইনি।’
নগরীর গোবরচাকা এলাকার ইজিবাইক চালক ডাবলু মিয়া বলেন, ইজিবাইক বের করব কি না ভাবছি।
ডাকবাংলা ও পিকচার প্যালেস মোড়ের অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল। খুলনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে মালিক ও কর্মচারীদের দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের বিভিন্ন ইশারা ও ইঙ্গিতে ডাকতে দেখা গেছে। পুলিশের উপস্থিতি দেখলে যে যার মতো সটকে পড়ছেন।
সকাল সোয়া ১১টার দিকে নগরীর পাওয়ার হাউস মোড়ে অর্ধেক শাটার নামিয়ে কিছু দোকান খোলা দেখা গেছে। পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি দেখে দ্রুত দোকান বন্ধ করে চলে যান ব্যবসায়ীরা।
শিববাড়ি মোড়ের চিত্র ছিল গতকাল থেকে ভিন্ন। সেখানে আজ সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল বেশ। অপ্রয়োজনে অনেকে রাস্তায় বের হয়েছে। শিববাড়ি মোড়ে আশপাশে গলির মধ্যে চায়ের দোকানে শাটার টেনে চা-পান বিক্রি করতে দেখা গেছে। সোনাডাঙ্গা থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। খুলনার সাথে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে।
উল্লেখ্য, খুলনার পৃথক তিনটি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুমেক পিসিআর মেশিনে ৫৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২২৪ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। যার মধ্যে খুলনার ৪৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১৮৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।