হতাশা কেন বাড়ে

নানা কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ে। আর হতাশা বাড়ার মূল কারণ শারীরিক ও মানসিক দুটোই হতে পারে। সাধারণত যেসব কারণে হতাশা বাড়তে দেখা যায় তা হলো

একাকিত্ব : দীর্ঘদিন ধরে মানুষ একা থাকলে তার মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে।

দুঃখবোধ : দুঃখবোধে আক্রান্ত থাকা কারোই কাম্য নয়। নানা কারণে দুঃখবোধ হয় যেমন ছিন্ন সম্পর্কের দুঃখ, চাকরি হারানোর দুঃখ, কাউকে পুরোপুরি হারানোর দুঃখ। দুঃখ হতাশার মতো মনে হয়। বেশি দিন স্থায়ী হলে ঘুমহীনতা, একাকিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। যার কারণে হতাশা বাড়ে।

অনিদ্রা : কম ঘুমালে শরীরে জড়তা তৈরি হয়। কাজে অনীহা বাড়ে। আস্তে আস্তে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।

অর্থহীনতা : জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে আমরা অর্থ খুঁজি। তা হোক কাজ বা সম্পর্ক। কিন্তু এই অর্থ খুঁজতে গিয়ে কখনো যদি মনে হয় এই কাজ বা সম্পর্কের কোনো মানে নেই, তখনই হতাশা ভর করে। আর দীর্ঘমেয়াদি হতাশা মানসিক বৈকল্য তৈরি করে।

পরিশ্রমহীনতা : কর্মহীন থাকলে বা শারীরিক পরিশ্রম না করলে হতাশার জন্ম হয়। তাই কর্মক্ষম থাকা যেমন দরকার, তেমনি ব্যায়াম করাও প্রয়োজন। জিমে যেতে না পারলে হাঁটুন, প্রাকৃতিক পরিবেশে ৩০ মিনিট বা ২০ মিনিট যোগাসন করুন। হতাশা কেটে যাবে।

প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সংস্পর্শহীনতা : গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে যদি কোনো মানুষ প্রকৃতির সংস্পর্শে না আসে, তবে তার মধ্যেও হতাশা দেখা দেয়। তাই এ ধরনের হতাশাগ্রস্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ইকো থেরাপি বা ‘গ্রিন থেরাপি’ চিকিৎসা পদ্ধতি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। প্রতিদিন কিছু সময় প্রকৃতির মাঝে কাটাতে পারেন। শান্ত-স্নিগ্ধ পরিবেশ মনের হতাশা কাটতে সাহায্য করবে। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরে বেড়ানো রুটিনে পরিণত করে নিন।

খাদ্যতালিকায় ঘাটতি : খাবার তালিকায় ভিটামিন ‘বি’ ও ‘ডি’ কম থাকলে হতাশা বাড়ে। আবার ‘গ্লুটোন’ বেশি থাকলে হতাশা বাড়ে।

স্ট্রেস : দিনের পর দিন স্ট্রেসে থাকলে হতাশা তৈরি হয়। তাই রুটিনমাফিক জীবনযাপন করুন এবং মাঝেমধ্যে রুটিন থেকে ছুটি নিন, অবসর কাটান। তাহলে স্ট্রেস মোকাবিলা করতে পারবেন।

কাজের চাপ : দিনের পর দিন কাজ করলেই চলবে না। আনন্দ-ফুর্তিরও দরকার আছে। প্রতিদিনকার শিডিউল থেকে কিছু সময় একান্ত নিজের জন্য রাখতে পারেন। এ সময় নিজের পছন্দের কাজ করা, বেড়াতে যাওয়া, আড্ডা দেওয়া এসব করলে হতাশা কাটবে।

হরমোনে ভারসাম্যহীনতা: ইস্ট্রোজেন প্রজেস্টেরন ও কর্টিসোল ইত্যাদি হরমোনের ভারসাম্যহীনতায় হতাশা আসতে পারে। তাই এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাহীনতা: নিজের হাসি-কান্না মনের প্রতি অবহেলা হতাশা নিয়ে আসে। নিজেকে ভালোবাসুন বা ভালোবাসতে শিখুন, হতাশা কেটে যাবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের

কাউন্সেলিং নিন।