ভারতে শনাক্ত হওয়া করোনার ডেল্টা ধরন আবারও রূপ বদলেছে। ডেল্টা প্লাস নামের নতুন এই ধরনটি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে বিশ্বজুড়ে। ইতিমধ্যে ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অন্তত নয়টি দেশে ডেল্টা প্লাস ছড়ানোর খবর মিলেছে। অতি সংক্রামক এই ধরনটি করোনা মহামারীর রাস টানার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে পারে বলে আশঙ্কা জনস্বাস্থ্যবিদদের। তাদের মতে ভারত, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশেই করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কারণ হতে পারে করোনার এই ধরন।
করোনার ডেল্টা ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়েছিল গত বছরের শেষের দিকে। এর কারণে চলতি বছরে এসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়েছে ভারত। দেশটি থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে ডেল্টা ধরন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে এটি।
করোনার এই ধরন দ্রুত ছড়াতে পারে। অল্প সময়ের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। করোনার ডেল্টা ধরনকে ‘উদ্বেগজনক ধরন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
ডেল্টা ধরন নিয়ে বিদ্যমান উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেই এর রূপ বদলের খবর মিলেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে গতকাল বুধবার বিবিসি জানিয়েছে, গত এপ্রিলে দেশটিতে করোনার ডেল্টা প্লাস ধরন প্রথম শনাক্ত হয়। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত মহারাষ্ট্র, কেরালা ও মধ্যপ্রদেশ ভারতের এই তিন রাজ্যের ছয়টি জেলায় ২২ জনের শরীরে করোনার এই ধরন শনাক্ত হয়েছে। শুধু ভারত নয়, দেশটির সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে করোনার ডেল্টা প্লাস ধরন।
বিবিসি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ভারত ছাড়াও এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আরও নয়টি দেশে ডেল্টা প্লাস ধরন ছড়িয়ে পড়ার খবর মিলেছে। দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ড, জাপান, পোল্যান্ড, নেপাল, রাশিয়া ও চীন।
জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, করোনার ডেল্টা প্লাস ধরন নিয়ে খুব বেশি তথ্য নেই। এমনকি অন্য ধরনগুলোর তুলনায় করোনার নতুন এই ধরন কত দ্রুত ছড়ায়, সে ব্যাপারেও স্পষ্ট করে জানেন না কেউ। ফলে করোনার এই ধরন নিয়ে উদ্বেগ রয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে রয়্যাল সোসাইটি অব লন্ডনের ফেলো চিকিৎসক গগনদ্বীপ কাং বলেন, ‘করোনার ডেল্টা প্লাস ধরনকে প্রকৃতপক্ষে উদ্বেগজনক বলতে আমাদের আরও তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন।’
তবে এর কারণে বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ঢেউ আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের রোগতত্ত্ববিদ নিল ফার্গুসন মনে করেন, যুক্তরাজ্যে করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের কারণ হতে পারে করোনার এই ধরন।