ভৌগোলিকভাবে সক্রিয় শুক্র

ফসফাইন গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়ার পর থেকেই শুক্রগ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের ব্যাপারে জোরদার গবেষণা শুরু করেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। শুক্রগ্রহে এই গ্যাস থাকার অর্থ সেখানেও জৈব পদার্থ আছে বলে অনেক আগে থেকেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। বর্তমানে নতুন এক গবেষণার ফলাফলে মনে করা হচ্ছে গ্রহটি এখনো ভৌগোলিকভাবে সক্রিয় রয়েছে।

শুক্রপৃষ্ঠের তথ্যের বিশ্লেষণে সেখানে টেকটনিক প্লেটের চলাচলের বিস্তর প্রমাণ ধরা পড়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, সৌরজগতের মধ্যে থাকা সব গ্রহের মধ্যে এতদিন এই ধরনের টেকটনিক চলাচল শুধুমাত্র পৃথিবীর বুকে দেখতে পাওয়া যেত।

জার্নাল প্রসিডিংস অব ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, শুক্র পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী গ্রহ হওয়ার কারণে ওই গ্রহের সঙ্গে পৃথিবীর অনেক মিল রয়েছে। এমনকি এর ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে পৃথিবীর বিস্তর মিল রয়েছে। আর তাতেই ক্রমশ জোরালো হচ্ছে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা।

যদিও শুক্রগ্রহের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য জানতে অনেক আগেই পরিকল্পনা করে সেরে রেখেছে নাসা। প্রথম অভিযানে নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডাভিঞ্চিপ্লাস’। এই অভিযানে মূলত শুক্রের বায়ুমন্ডল সংক্রান্ত তথ্যের পর্যালোচনা করা হবে বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভেরিটাস’ মিশন। এই অভিযানে শুক্রের ভূমির গঠন বা ভূতাত্ত্বিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তাতেই টেকটনিক প্লেটের অবস্থান সম্পর্কে একটা সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সেই সঙ্গে শুক্রে পানির অস্তিত্বের খোঁজও জোর কদমে চালাচ্ছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। তবে বর্তমানে গবেষকরা ১৯৯০ সালে নাসার ম্যাগেলান মিশন থেকে প্রাপ্ত শুক্রের পৃষ্ঠকে মানচিত্রের রাডার চিত্র বিশ্লেষণ করেই যাবতীয় তথ্যানুসন্ধান করছেন বলে জানা গেছে। আর তাতেই লিথোস্ফিয়ারের বড় বড় ব্লকগুলোর সঞ্চালনের চিত্রও ধরা পড়েছে। অন্যদিকে ১৯৯০ সালে ওই মিশনে শুক্রগ্রহে মোট ১৩৩টি আগ্নেয়গিরির খোঁজ পাওয়া গেছে, তবে ৩৭টি এখনো পর্যন্ত সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।