নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ফাহিম (১৩) নামে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে আয়রনের ছ্যাঁকা ও মাথা ফাটিয়ে নির্যাতনকারী মাদ্রাসাশিক্ষক ও অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী দক্ষিণপাড়া এলাকার মাদ্রাসাই সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নরসিংদী জেলার মাধবদী থানার ময়শাদি এলাকার শিক্ষক শাহপরান ও অধ্যক্ষ শাহজালাল।
এর আগে, গত বুধবার রাত থেকে মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় শিক্ষক শাহপরান ও শাহজালালের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়। গতকাল সকালে ওই শিক্ষার্থীর নানা শহিদুল্লাহ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহার ও ওই শিক্ষার্থীর নানা শহিদুল্লাহ জানান, গত শনিবার সকালে মাদ্রাসাশিক্ষক শাহপরান শিক্ষার্থী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ফাহিমকে কাপড় ইস্তিরি করার আয়রন দ্বারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়। এ সময় ওই শিক্ষক পা উপরের দিকে দিয়ে মাটিতে ফাহিমকে আছড়ে দিয়ে মাথা থেঁতলে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেত্রাঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে নির্যাতনের বিষয়টি মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ শাহজালালকে জানালে শাহপরান তার ভাই হওয়ায় তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চান। এ কারণে চিকিৎসার জন্য প্রতিবন্ধী ফাহিমকে মাদ্রাসা থেকে বের হতে না দিয়ে তিনি নিজেই ওষুধ এনে দেন। নির্যাতনের বিষয়টি বাইরে না জানানোর জন্য শাহপরান ও শাহজালাল দুই ভাই মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখান। গত বুধবার ভোরে ফাহিম মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারের লোকজনকে জানালে তারা তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করান।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ বলেন, এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর নানা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় দুই অভিযুক্ত শাহপরান ও শাহজালাল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।