ঢাকার আশপাশের ৭ জেলায় লকডাউনে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী যানবাহনগুলো দাউদকান্দির বলদাখাল এলাকায় আটকে দেয়া হচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২চা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, হাইওয়ে পুলিশের বসানো বলদাখাল চেকপোস্টে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার থেকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় চা বিক্রেতা জাকির মিয়া জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এভাবেই যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস থামিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, করোনা মহামারি থেকে রাজধানী ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন রাখতে সাত জেলায় লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণপরিবহন ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ফলে সড়কে যাত্রীবাহী পরিবহন কম চলায় দুর্ভোগ বেড়েছে যাত্রীদের।
জরুরি প্রয়োজনে অনেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে দাউদকান্দি অংশে আটকে পড়ে বাধ্য ঢাকা অভিমুখে হাঁটতে শুরু করেন। সবুজ মিয়া সকাল ৭টায় ফেনী থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন। সাথে ষাটোর্ধ্ব মা বেগম, স্ত্রী খাদিজা ৭, ৫ ও ২বছরের তিন ছেলে মেয়েকে নিয়ে বসে আছেন বলদাখাল স্ট্যান্ডে। ঢাকা দোহারে তাদের বাড়ি। পেশায় কৃষি কাজ করেন। এক সপ্তাহ আগে শ্বশুর বাড়ি ফেনীতে গিয়ে ছিলেন।
তিনি জানান, ফেনী থেকে বাসে ও সিএনজি করে চার ঘণ্টায় কয়েক গুন বেশি ভাড়ায় এখানে (বলদাখাল) এসেছি। এখন ছেলে মেয়ে ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে কীভাবে দোহারে যাব চিন্তায় আছি।
মুরাদনগর উপজেলার পান্নারপুল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে হেঁটে গোমতী সেতু পার হচ্ছেন নুর হোসেন। তিনি পান্নারপুল জেনারেল হাসপাতালে (বেসরকারি) চাকরি করেন। এখন ঢাকায় নতুন চাকরিতে যোগদানের জন্য যাচ্ছেন। তিনি বলেন, পান্নারপুল থেকে এক শ টাকায় ইলিয়টগঞ্জ আসার পর ৫০টাকায় দাউদকান্দি বলদাখাল এসেছি। এখান থেকে মাইক্রোবাসে ৩০০ টাকা করে সাইনবোর্ড নিচ্ছে। টাকা কম থাকায় হেঁটে ব্রিজ পার হচ্ছি। ওপারে কম পেলে যাব, না হলে হেঁটেই যাব।
ঢাকার শান্তিনগর টুইন টাওয়ারে কাপড়ের ব্যবসা করেন দেবীদ্বার উপজেলার তালতলা গ্রামের মেহেদি হাসান। শ্বশুর বাড়ি তিতাস উপজেলার মানিককান্দি থেকে অসুস্থ স্ত্রী জান্নাত পারভিনকে নিয়ে ঢাকায় ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। জনপ্রতি ৫০০ টাকা ভাড়ার চুক্তিতে গৌরীপুর থেকে প্রাইভেটকারে ওঠেন। গাড়িতে এসি না থাকায় অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বলদাখালে নেমে যান। ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর ঢাকাগামী একটি হাইস মাইক্রোবাসে উঠতে দেখা যায় তাদেরকে।
উলদাখাল এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ বলেন, মহাসড়কের দাউদকান্দি বলদাখাল এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। যাতে গণপরিবহন মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে। আর যানজট শুধু চেকপোস্টের কারণে নয়, বালু বাহী ট্রাকের কারণে এখানে প্রতিদিন যানজট লেগে থাকে।
উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ২২ জুন সকাল ৬টা থেকে ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।