জয়পুরহাটের লতি যাচ্ছে ২৫ দেশে

জয়পুরহাটের কচুরলতি বিশ্বের প্রায় ২৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। অন্য ফসলের চেয়ে বারি লতিকচু-১ জাতের কচুর চাষ বেশি লাভজনক। এ কারণে এই কচুর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

স্থানীয় ও জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মাটি অত্যন্ত ভালো হওয়ায় এখানে এই জাতের কচুর ফলন ভালো হয়। কচুরলতি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ায় দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর বেশ চাহিদা। প্রায় ৩০ বছর আগে পাঁচবিবি উপজেলার বটতলী এলাকা ও আশপাশের কিছু গ্রামের কৃষকরা সীমিত পরিসরে নিজেদের পরিবারের সবজির চাহিদা মেটাতে এই কচুর চাষ শুরু করেন। এরপর পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে তারা আশপাশের হাট-বাজারে এই কচু এবং কচুরলতি বিক্রি করে আসছিলেন। এতে বেশি মুনাফা হওয়ায় তারা এই কচুর চাষে ঝুঁকে পড়েন। এরপর এখান থেকে কচু ও লতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ শুরু হয়।

১৯৯৫ সালে পাঁচবিবির বটতলী এলাকায় স্থানীয়রা ভাড়া জায়গায় গড়ে তোলেন কচু ও লতির হাট। ১৯৯৮ সালে কৃষিপণ্য রপ্তানিকারকদের নজরে আসে এই লতি। এরপর থেকে এই কচু কুয়েত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়াসহ বিশে^র ২৫ দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই কচু জয়পুরহাট জেলার উল্লেখযোগ্য পণ্য হিসেবে ব্রান্ডিংও করা হয়েছে। বর্তমানে বটতলী হাটে প্রকারভেদে প্রতি কেজি লতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এই মৌসুমে জেলায় বারি লতিকচু-১ জাতের কচুর চাষ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। আর কচুর লতির ফলন হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টন। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ লতি বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

পাঁচবিবি পৌরসভার মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, লতিরাজ কচুর উৎপত্তি পাঁচবিবিতেই। এই কচু বেচাকেনার জন্য সরকারিভাবে নির্ধারিত কোনো হাট নেই। পৌর এলাকার বটতলীতে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে কচুর হাট গড়ে তুলেছেন। এখানকার কচু বিশে^র ২৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু এখানে কোনো প্রসেসিং সেন্টার নেই। সরকারিভাবে এই প্রসেসিং সেন্টার যেন পাঁচবিবিতেই করা হয়। এতে এখানে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, তেমনি সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক স ম মেফতাহুল বারি বলেন, পাঁচবিবির মাটি অত্যন্ত ভালো হওয়ায় এখানে উন্নতমানের লতিরাজ কচুর চাষ হয়। এই কচু অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ার কারণে দেশে যেমন, বিদেশেও চাহিদা অনেক। এখানকার উৎপাদিত ৪০ শতাংশ লতিরাজ কচু কুয়েত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়াসহ বিশে^র ২৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। জেলা কৃষি বিভাগ থেকে জয়পুরহাটে একটি প্রসেসিং প্ল্যান্ট করার জন্য প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।