চায়ের দোকানে বসা নিয়ে তর্ক

নেত্রকোনায় কলেজছাত্রকে ছুরি মেরে হত্যা

নেত্রকোনায় চায়ের দোকানে বসা নিয়ে তর্কের জেরে আনোয়ার হোসেন (২৫) নামে এক কলেজছাত্রকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলার দুর্গাপুর উপজেলার চ-ীগড় ইউনিয়নের বড়ইউন্দ বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

আনোয়ার হোসেন ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন সরকারি কলেজে মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন। এ ঘটনায় তার বাবা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের আনন্দপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য মকবুল হোসেন (৫৫) ও চাচাতো ভাই আব্দুর রহমানের ছেলে মনির (২৫) আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার নিহতের চাচা সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় ৭ জনের নাম ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে আব্দুর রহিমের ছেলে ফারুক হোসেনকে (২৩) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নিহতের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার দুর্গাপুরের বড়ইউন্দ ও কলমাকান্দার আনন্দপুরÑ দুই গ্রামের সীমানাসংলগ্ন একটি কবরস্থান নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তিন বছর আগে এ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ ও মামলা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর আনোয়ার বড়ইউন্দ বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় একই গ্রামের মরম আলীর ছেলে জুয়েল সেখানে গিয়ে বসা নিয়ে আনোয়ারের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে জুয়েল বাড়ি ফিরে যান। কিছুক্ষণ পর বাবা, ভাই সোহেল, ফারুক হোসেনসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে এসে আনোয়ারকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।

এতে আনোয়ার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে বাজারে থাকা আনোয়ারের বাবা মকবুল ও চাচাতো ভাই মনির সেখানে গেলে তাদেরও আহত করা হয়। পরে স্বজনরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। আহতদের উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আনোয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাকি দুজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দুর্গাপুর থানার ওসি শাহনুর-এ আলম জানান, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ আজ (গতকাল) সকালে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচার মামলায় ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।