শতবর্ষেও শক্তিশালী চীনা কমিউনিস্ট পার্টি

আগামী ১ জুলাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। জন্মের দ্বিতীয় শতকে পা দেওয়ার মুহূর্তেও দলটি প্রভাব-প্রতিপত্তি ধরে রেখেছে। সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে দলটি শুধু দীর্ঘ সময় টিকে রয়েছে তা নয়, বরং এর শক্তি দিন দিন বেড়ে চলেছে বলে দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়, তখন অনেকেই বলেছিলেন, এরপর চীনাদের অবস্থা ওরকম হবে। তবে তারা যে কতটা ভুল ছিলেন, তার প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মন্তব্য। চীন যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী এটা শুধু স্বীকার করাই নয়, চীনা কমিউনিস্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় গণতন্ত্র টিকবে কি না তা নিয়েও সম্প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। চীনা কমিউনিস্টদের এ সাফল্যের পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, তারা নির্দয়। ১৯৮৯ সালে তিয়ানানমেন স্কয়ারে বিক্ষোভকারীদের ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার আগে এই দলটিও কেঁপে উঠেছিল। তবে ঘটনাক্রমে কমিউনিস্ট শাসকরা জনতার প্রতিবাদের জবাব গুলি ছুড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চীনা নেতাদের এখনো অনুতপ্ত বোধ করার লক্ষণ নেই। বরং চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের দাবি, মস্কোর নেতাদের যথেষ্ট সাহস না থাকার কারণেই সোভিয়েত ভেঙে পড়েছিল। যাকে অন্যভাবে বললে দাঁড়ায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর আমাদের মতো মেশিনগান দিয়ে গুলি ছোড়ার সাহস ছিল না তাদের।

দ্বিতীয় কারণ, দলীয় নেতাদের আদর্শগত ক্ষিপ্রতা। ১৯৭৬ সালে মাওয়ের মৃত্যুর কয়েক বছরের মধ্যেই দেং জিয়াওপিং প্রয়াত চেয়ারম্যানের ‘জনসংযোগ’ নীতি বিলুপ্ত করেন। তিয়ানানমেন এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পরিপ্রেক্ষিতে দেং কট্টর মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন এবং পুঁজিবাদের পক্ষ নেন। এতে রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং বেসরকারিকরণ বেড়ে যায়। লাখ লাখ মানুষ চাকরি হারালেও চীনের অর্থনীতি টগবগিয়ে ওঠে।

শি চিনপিংয়ের আমলে কমিউনিস্টদের আরও একবার আদর্শগত পরিবর্তন আসে। তার উত্তরসূরিরা বিরোধীমতের প্রতি কিছুটা নমনীয় থাকলেও এ ক্ষেত্রে রীতিমতো চড়াও হন নতুন প্রেসিডেন্ট। ফের মাওবাদী সুর জোরালো হয়ে ওঠে। তৃণমূল পর্যায়ে দল পুনর্গঠিত করেন চিনপিং। ব্যবসা-বাণিজ্যও লাইনে চলে আসে। চীনা সমাজব্যবস্থায় এমন কড়াকড়ি আগে খুব একটা দেখা যায়নি।

কমিউনিস্ট পার্টি টিকে থাকার তৃতীয় কারণ, চীন সরাসরি ক্লেপ্টোক্রেসির দিকে যায়নি। এ প্রক্রিয়ায় ধনকুবেররা রাজনীতির ছত্রছায়ায় অর্থসম্পদ শুষে নেয়। চীনে দুর্নীতি বেড়েছে ঠিকই, ক্ষমতাধর পরিবারগুলো আরও ধনী হয়েছে, তবে বাকি লোকেরা মনে করেন, তাদেরও জীবনমানের উন্নয়ন হয়েছে। জনসাধারণের চাহিদা মেটাতে কমিউনিস্ট পার্টি যোগ্য কৌশল নিয়েছে বলেই বিশ্বাস করেন তারা।

তাছাড়া অনেকেই কমিউনিস্টদের শক্ত পদক্ষেপেরও পক্ষে। তাদের মতে, পশ্চিমা বিশ্ব যেখানে এখনো হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে চীন কত দ্রুত করোনাভাইরাস মহামারী নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেছে। এর মাধ্যমে চীনের গৌরব আরও বেড়েছে বলে বিশ্বাস জন্মেছে তাদের মনে।