কর্মী ধার করে সংকট কাটাবে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক

সীমিত জনবল দিয়ে বিপুল সম্পদ ব্যবস্থাপনা করা নিয়ে বড় ধরনের সংকট দেখছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। এ কারণে বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো থেকে অন্তত ১০জন সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে চিঠি দিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আকবর হোসেন।

ওই চিঠির সূত্র ধরে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে প্রেষণে পদায়নের জন্য গত ২১ জুন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে এসপিও ও এজিএমদের নামের তালিকা চেয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ সিদ্দিকুর রহমান।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক বলছে, প্রতিষ্ঠার ৭ বছরে মিড লেভেলের ১জন কর্মীও নিয়োগ দিতে পারেনি ব্যাংকটি। কর্মীর অভাবে ব্যাংকের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। গত ১৩ জুন বিষয়টি তুলে ধরে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে দেওয়া পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এমডির চিঠিতে বলা হয়, আমার বাড়ি আমার খামার (পূর্ব নাম একটি বাড়ি একটি খামার) প্রকল্পকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ২০১৪ সালে আইন করে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সরকার।

জানা গেছে, মহাব্যবস্থাপক (জিএম) পর্যায়ের ৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ব্যাংকটিতে জিএম রয়েছেন ১ জন। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এমডি জানান, আগামী ৩০ জুন প্রকল্প বিলুপ্ত হয়ে প্রকল্পে গঠিত সমিতিগুলোসহ যাবতীয় সহায়-সম্পদ ব্যাংকটিতে স্থানান্তরিত হবে। তখন সমিতির সংখ্যা দাঁড়াবে ১ লাখ ২০ হাজারে। এতে ব্যাংকের কার্যক্রম বর্তমানের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়বে। এই সময়ে মিড লেভেলের জনবলের অভাবে ব্যাংকের কার্যক্রম বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে কাজের তদারকি, অডিট, প্রধান কার্যালয়ের কাজ পরিচালনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জানা গেছে, ব্যাংকের কর্মী নিয়োগের বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় মিড লেভেলের কর্মী নিয়োগ দিতে পারছে না পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক। এ বিষয়েও ব্যাংকটি গত ১১ এপ্রিল মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায়। তবে বিষয়টির কোনো অগ্রগতি না থাকায় গত ৭ জুন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ৬৪তম পর্ষদ সভায় প্রেষণে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো থেকে অন্তত ১০ জন কর্মকর্তাকে ১ বছরের জন্য প্রেষণে নিয়োগ দেওয়ার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অনুরোধের সিদ্ধান্ত হয়।

এই পরিস্থিতিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ব্যাংকটির এমডি আকবর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিড লেভেলের জনবলের প্রয়োজন ছিল অন্তত ১০০ জন। কিন্তু নিয়োগবিধি চূড়ান্ত না হওয়ায় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন যদি ১০ জন কর্মীও পাওয়া যায় তা দিয়েও ব্যাংকটির কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়া যাবে।’

তবে ব্যাংকটির কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারায় অন্যান্য ব্যাংক থেকে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে কর্মী আসতে চান না বলেও সংশয় প্রকাশ করেন আকবর হোসেন।

এদিকে আগামী ৩০ জুন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বর্তমান এমডি আকবর হোসেনের চাকরির মেয়াদ শেষ হবে। তাকে ১ জুলাই থেকে আরও ৩ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার বিষয়েও ব্যাংকটির পর্ষদে সিদ্ধান্ত হয়। এক্ষেত্রে তার পিআরএল স্থগিত রাখার শর্তে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অব্যাহত রাখার বিষয়ে মত দেন ব্যাংকটির পর্ষদ সদস্যরা। তবে সোমবার থেকে করোনাভাইরারের সংক্রমণ রোধে আবারও নতুন করে চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের এমডির পুনঃনিয়োগ ও মিড লেভেলের কর্মীর প্রেষণে নিয়োগ মসৃণভাবে এগোবে কি না তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন ব্যাংকটির এমডি আকবর হোসেন।