দেশের পোশাক খাত সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হওয়া সত্ত্বেও এই শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নের বিষয়টি অনেকটাই উপেক্ষিত; বিশেষ করে অধিকাংশ শিল্প মালিক শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার দিকটি আমলে আনেন না। অথচ স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা ও রোগের ঝুঁকি কমাতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অপরিহার্য। এমনকি শ্রমিকদের পুষ্টির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে।
‘সমন্বিত কৌশল এবং কর্মশক্তি পুষ্টির জন্য সহযোগিতামূলক অ্যাকশন পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিশেষজ্ঞদের উপস্থাপিত গবেষণা সমীক্ষা থেকে এ তথ্য উঠে আসে। গতকাল শনিবার গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রোভড নিউট্রিশন (গেইন) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের (ডব্লিউএফপি) যৌথ উদ্যোগে গঠিত প্ল্যাটফর্ম স্কেলিং আপ নিউট্রিশন-সান (এসইউএন) বিজনেস নেটওয়ার্ক (বিএন)-বাংলাদেশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
এতে স্বাগত বক্তব্য দেন গেইন বাংলাদেশের পোর্টফোলিও লিড মনিরুজ্জামান বিপুল। ‘কর্মক্ষেত্রে পুষ্টি : চলমান অনুুশীলন ও ভবিষ্যৎ নির্দেশনা’ শীর্ষক গবেষণাটি করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাইফুন নাহিন শিমুল।
এই সমীক্ষায় তিনি পর্যবেক্ষণমূলক মতামত তুলে ধরেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকদের পুষ্টিক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে। এসংক্রান্ত বিভিন্ন নিবন্ধ পর্যালোচনা ও মূল স্টেকহোল্ডার, যেমন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর, ব্যবসায়ী সমিতি, দাতা সংস্থা, পোশাক ক্রেতা, পোশাকশিল্পের মালিক ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, খাদ্য উৎপাদনকারী, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ গবেষণাটি করা হয়।
এ ছাড়া ‘অ্যাসেসমেন্ট অব কি মার্কেট সিস্টেম অ্যাকটরস ফর নিউট্রিশাস অ্যান্ড সেইফ ফুড প্রভিশন অ্যারাউন্ড দ্য আরএমজি ফ্যাক্টরিজ’ শীর্ষক আরেকটি গবেষণা স্টাডি তুলে ধরেন নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের ফাইন্যান্সের সহকারী অধ্যাপক ড. ফাহিম ফয়সল। এই গবেষণায় পোশাকশিল্পের ম্যানেজার, শ্রমিক, সরকারেরে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারসহ ৬২টি সংশ্লিষ্ট গ্রুপের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ এ কয়েকটি শিল্পাঞ্চলকে নির্বাচন করা হয়।
এই সমীক্ষার পর্যবেক্ষণে বলা হয়, পোশাকশ্রমিকরা সাধারণত ব্যস্ত জীবন অতিবাহিত করেন। এ কারণে তারা দ্রুত প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের প্রতি বেশি আগ্রহী হন। নারী শ্রমিকরা ডিম, নুডলস, স্ন্যাকড আলু জাতীয় খাবারগুলোই বেশি গ্রহণ করেন। তা ছাড়া কারখানার আশপাশে ছোট ছোট দোকানে ভেজাল ও বাসি তেলযুক্ত খাবার বেশি বিক্রি হয়; যা বেশির ভাগ পোশাকশ্রমিক বিভিন্ন সময়ে খেয়ে থাকেন। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।