চলন্ত বাসে তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণ

চট্টগ্রামে চলন্ত বাসে এক নারী পোশাকশ্রমিক (২২) দফায় দফায় দল বেঁধে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত শুক্রবার মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনভর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ধর্ষণের অভিযোগ এনে ৯ জনকে আসামি করে মিরসরাই থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। তার দাবি, গত বুধবার কারখানা ছুটির পর বাসায় ফেরার পথে একইদিন বিকেল ও রাতে চলন্ত বাসে দুই দফায় দল বেঁধে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো সীতাকু-ের মুরাদপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন রানা, মাহমুদাবাদ গ্রামের আশরাফুল ইসলাম, বাঁশবাড়িয়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন, শিবপুর গ্রামের মো. ইসমাইল, মিরসরাইয়ের মধ্যম করুয়া গ্রামের বেলাল হোসেন ও একই গ্রামের মো. সাগর। আর ধর্ষণের শিকার  নীলফামারীর বাসিন্দা। পোশাক কারখানায় কাজের সূত্রে চট্টগ্রামে থাকেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার বিকেলে কারখানা ছুটির পর চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে ওই তরুণীকে মিনিবাসে তুলে নেয় বাসটির চালক পূর্বপরিচিত আশরাফুল ইসলাম। পরে বাসটি সীতাকুণ্ড উপজেলার দিকে যেতে থাকে। সীতাকু-ের একটি জুটমিলের সামনে বাসের সব যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে আশরাফুল ও তার সহকারী শাহদাত। এরপর বাস থেকে তরুণীকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় তারা। ওই সময় চাকরির সূত্রে পূর্বপরিচিত রায়হান উদ্দিন নামে একজনের কাছে মোবাইল ফোনে সাহায্য চায় ওই তরুণী। পরে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তরুণীকে উদ্ধারের পর তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় রায়হান। এরপর তরুণীকে অন্য আরেকটি মিনিবাসে তুলে মিরসরাইয়ের ডোমখালী বেড়িবাঁধ এলাকায় নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় তারা। গত বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় সীতাকুণ্ড থানায় গিয়ে অভিযোগ করলে তাকে মিরসরাই থানায় পাঠানো হয়।

মিরসরাই থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, মামলার পর মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি মিনিবাস জব্দসহ অভিযুক্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।